সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী দিল্লি-তে চরম আতঙ্ক। পর পর অন্তত ১০টি স্কুলে বোমা রাখা হয়েছে—এমন হুমকি ইমেল পৌঁছতেই তৎপর প্রশাসন। শুধু স্কুল নয়, ওই ইমেলেই উল্লেখ করা হয়েছে ভারতের সংসদ ভবন উড়িয়ে দেওয়ার হুমকির কথাও। খবর পেয়েই সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক তল্লাশি, নামানো হয়েছে বম্ব স্কোয়াড ও দমকলবাহিনী।
হুমকি ইমেল ঘিরে রাজধানীতে ফের নিরাপত্তা উদ্বেগ তুঙ্গে। যদিও এই প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত কোনও স্কুলেই সন্দেহজনক কিছু মেলেনি। তবু সাম্প্রতিক অতীতের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে প্রতিটি তথ্যকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ ও গোয়েন্দারা।

হুমকি ইমেলে কী লেখা ছিল
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, ওই হুমকি ইমেলগুলিতে খলিস্তানপন্থী বার্তা ছিল। সঙ্গে কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি নেতা আফজল গুরুর প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়। একটি ইমেলে স্পষ্ট করে লেখা ছিল—সোমবার দুপুর ১টা ১১ মিনিটে স্কুলগুলিতে বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। পাশাপাশি, একই সময় ১৩ ফেব্রুয়ারি সংসদ ভবনে বিস্ফোরণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ইমেলের প্রেরকের নামের জায়গায় লেখা ছিল—‘খলিস্তান ন্যাশনাল আর্মি’। সোমবার সকাল থেকেই একের পর এক স্কুলে এই ধরনের ইমেল আসতে শুরু করে বলে সূত্রের খবর।
প্রশাসনের তৎপরতা
হুমকি ইমেল নজরে আসতেই স্কুল কর্তৃপক্ষেরা পুলিশকে জানায়। এর পর প্রতিটি স্কুলে পৌঁছে যান বম্ব স্কোয়াডের আধিকারিকেরা। দমকলবাহিনীও মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে স্কুল চত্বর খালি করে দিয়ে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি।

ভুয়ো হুমকি, তবু বাড়তি সতর্কতা
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে দিল্লিতে একাধিকবার বোমা থাকার ভুয়ো হুমকি ইমেল পাঠানো হয়েছে। গত বছরের অগস্টে স্বাধীনতা দিবসের পর একসঙ্গে ৫০টিরও বেশি স্কুলে এমন হুমকি এসেছিল। পরে সব ক’টিই ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়।
তবে গত বছরের নভেম্বরে লালকেল্লার অদূরে একটি গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। তার পর থেকেই এ ধরনের হুমকি বার্তাকে হালকা ভাবে নিতে নারাজ পুলিশ। তাই এ বারও কোনও কিছু না মিললেও পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে কোন পথে পুলিশ
কে বা কারা এই ইমেল পাঠিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইমেলের উৎস, আইপি অ্যাড্রেস ও সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে, এটি ভুয়ো আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা নাকি বড় কোনও ষড়যন্ত্রের অংশ—সব দিক মাথায় রেখেই তদন্ত চালাচ্ছে দিল্লি পুলিশ।







