রাজধানীর বুকে ফের নাবালিকার উপর পাশবিক অত্যাচারের অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল। ট্রাফিক সিগন্যালে ফুল বিক্রি করা ১১ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণ করে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক ই-রিক্সাচালকের বিরুদ্ধে। অচৈতন্য অবস্থায় জঙ্গল এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত, মৃত ভেবেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে উঠছে প্রশ্ন—রাজধানীতেই যদি শিশুদের নিরাপত্তা না থাকে, তবে আর কোথায়? দিল্লির এই লজ্জাজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে সরব হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১১ জানুয়ারি দিল্লির প্রসাদ নগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। প্রতিদিনের মতোই ওই নাবালিকা ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে গোলাপ ফুল বিক্রি করছিল। সেই সময় একটি ই-রিক্সা এসে দাঁড়ায়। অভিযুক্ত রিক্সাচালক কিশোরীকে বোঝায়, তার রিক্সায় বসলে এমন জায়গায় নিয়ে যাবে, যেখানে সব ফুল বিক্রি হয়ে যাবে। বিশ্বাস করেই কিশোরী রিক্সায় ওঠে।


অভিযোগ, এরপর অভিযুক্ত একটি নির্জন জঙ্গল এলাকায় নিয়ে গিয়ে কিশোরীর উপর পাশবিক অত্যাচার চালায়। শারীরিক নির্যাতনে সংজ্ঞা হারায় নাবালিকা। অভিযুক্ত মনে করে, কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে এবং সেখানেই ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
কিছু সময় পরে জ্ঞান ফিরলে কোনওমতে বাড়ি পৌঁছয় নির্যাতিতা। তার শারীরিক অবস্থা দেখে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবার এবং পুলিশে খবর দেওয়া হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার পাশাপাশি অপহরণ, ধর্ষণ ও পকসো আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতা গভীর মানসিক আঘাতে রয়েছে এবং এখনও স্বাভাবিকভাবে সব কথা বলতে পারছে না। ঘটনার তদন্তে শেষ যেখানে কিশোরীকে দেখা গিয়েছিল, সেই এলাকা সংলগ্ন ১৫টি রুটের ৩০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেরায় সে স্বীকার করেছে, আগেও ওই কিশোরীকে একাধিকবার ট্রাফিক সিগন্যালে ফুল বিক্রি করতে দেখেছিল এবং সেখান থেকেই অপহরণ ও ধর্ষণের পরিকল্পনা করে।


এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও তীব্র হয়েছে। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট করে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ বাংলায় এসে পরিবর্তনের কথা বলেন। কিন্তু পরিবর্তন শুরু হওয়া উচিত বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকেই। যে সরকার মহিলাদের নিরাপত্তা দিতে পারে না, পরিষ্কার জল-বায়ু দিতে পারে না, প্রাণঘাতী হামলা রুখতে ব্যর্থ—তাদের বাংলায় এসে ভোট চাওয়ার কোনও অধিকার নেই।”
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



