দিল্লির বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ আরও এক ধাপ বেড়েছে। বুধবার এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করাল দিল্লি হাই কোর্ট। পরিষ্কার বাতাস নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে অন্তত বায়ু শোধনকারী যন্ত্রের (এয়ার পিউরিফায়ার) উপর জিএসটি কমিয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তি দেওয়া হোক— এমনই প্রস্তাব দিল আদালত।
বর্তমানে এয়ার পিউরিফায়ারের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি ধার্য রয়েছে। সেই হার কমিয়ে ৫ শতাংশ করার দাবিতে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করে আদালত। মামলাকারীর বক্তব্য, ভয়াবহ দূষণের সময়ে এয়ার পিউরিফায়ার কোনও বিলাসপণ্য নয়, বরং এটি একটি জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
বুধবার মামলাটির শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্রকুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তুষাররাও গেদেলা-র ডিভিশন বেঞ্চে। শুনানিকালে আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানায়, প্রতিটি নাগরিকের বিশুদ্ধ বাতাস পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
প্রধান বিচারপতির মন্তব্য,
“প্রত্যেক মানুষকে দিনে প্রায় ২১ হাজার বার শ্বাস নিতে হয়। বিশুদ্ধ বাতাস যদি দিতে না পারেন, অন্তত এয়ার পিউরিফায়ারের উপর কর কমিয়ে কিছুটা স্বস্তি দিন। সাময়িক ভাবে হলেও ১৫ দিনের জন্য ছাড় দেওয়া যেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিকে একটি জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করুন।”
কেন্দ্রের আইনজীবীর উদ্দেশে আরও কড়া মন্তব্য করে আদালত বলে,
“আপনি নিজে দিনে কতবার শ্বাস নেন, ভেবে দেখেছেন? একবার হিসাব করুন, দূষণের কারণে নিজের শরীরের কী ক্ষতি হচ্ছে!”
আদালত জানিয়েছে, এই বিষয়ে কেন্দ্র সরকার কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে, তা বুধবারের মধ্যেই জানাতে হবে। পাশাপাশি অবকাশকালীন বেঞ্চে মামলাটি শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য তালিকাভুক্ত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি যে শুধুই প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্ন নয়, বরং একটি জনস্বাস্থ্য সংকট— দিল্লি হাই কোর্টের এই পর্যবেক্ষণে সেটাই আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল।



