দিল্লি বিস্ফোরণে মিলল ‘মিলিটারি-গ্রেড’ বিস্ফোরকের ইঙ্গিত! ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার কার্তুজ

লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণস্থল থেকে দু’টি কার্তুজ ও দু’ধরনের বিস্ফোরক নমুনা উদ্ধার। ফরেন্সিক সূত্রে মিলছে মিলিটারি-গ্রেড রাসায়নিকের ইঙ্গিত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নয়াদিল্লি, ১২ নভেম্বর: Delhi blast investigation update— রাজধানীর লালকেল্লা এলাকার বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বিস্ফোরক নিয়ে উঠে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে দু’টি তাজা কার্তুজ এবং দু’ধরনের বিস্ফোরক

ফরেন্সিক দল ইতিমধ্যেই সেগুলিকে পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, একটি বিস্ফোরক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট (Ammonium Nitrate) জাতীয় রাসায়নিক হতে পারে। অন্যটির প্রকৃতি এখনও স্পষ্ট নয়, তবে সূত্র বলছে, সেটি হতে পারে মিলিটারি-গ্রেড বিস্ফোরক যেমন PETN, RDX বা Semtex-এর মতো উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পদার্থ।

Shamim Ahamed Ads

ঘটনাস্থলে মিলল শক্তিশালী বিস্ফোরকের চিহ্ন

তদন্তকারী এক কর্মকর্তার দাবি, ঘটনাস্থল থেকে ৪২টি নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরণের ধরণ, আগুনের রঙ এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বিচার করে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, বিস্ফোরণটি ঘটেছিল অত্যাধুনিক বিস্ফোরক দিয়ে, যা সাধারণ নাগরিক ব্যবহারের বাইরে।

সূত্রের মতে, বিস্ফোরণের সময় কমলা রঙের আগুনের শিখা দেখা গিয়েছিল — যা সাধারণত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ও ডিটোনেটর ব্যবহারে ঘটে। ফলে অনুমান করা হচ্ছে, IED (Improvised Explosive Device) তৈরিতে একাধিক রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছিল।

তবে ফরেন্সিক টিম এখনো পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেয়নি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি সত্যিই military-grade explosive ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে এটি কোনো সংগঠিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বহন করছে।

দিল্লি বিস্ফোরণে মিলল ‘মিলিটারি-গ্রেড’ বিস্ফোরকের ইঙ্গিত! ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার কার্তুজ
দিল্লি বিস্ফোরণে মিলল ‘মিলিটারি-গ্রেড’ বিস্ফোরকের ইঙ্গিত! ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার কার্তুজ

সন্দেহভাজন উমর মহম্মদ ও হুন্ডাই আই২০ গাড়ির সূত্রে তদন্ত

বিস্ফোরণে ব্যবহৃত সাদা রঙের হুন্ডাই আই২০-র উৎস নিয়েও তদন্ত চলছে। সূত্রের খবর, ফরিদাবাদের সোনু নামে এক ডিলারের কাছ থেকে গাড়িটি কিনেছিলেন উমর মহম্মদ, যিনি বিস্ফোরণের দিন গাড়ি চালাতে দেখা গিয়েছিলেন।

তদন্তে আরও জানা গেছে, গাড়িটি ২৯ অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্কিংয়ে ছিল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১০ নভেম্বর সকালে উমর গাড়িটি নিয়ে বের হন— সেই দিনই ঘটে বিস্ফোরণ।

সূত্রের দাবি, লালকেল্লায় আসার আগে গাড়িটিকে কনট প্লেস ও ময়ূর বিহারে দেখা গিয়েছিল। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই চলাচল কি পরিকল্পিত reconnaissance mission ছিল?

আত্মঘাতী হামলা নয়, নাকি বিস্ফোরক পরিবহনের সময় দুর্ঘটনা?

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, বিস্ফোরণটি সম্ভবত আত্মঘাতী হামলা নয়, বরং বিস্ফোরক স্থানান্তরের সময় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, একদিন আগেই অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয়েছিল প্রায় ২,৯০০ কেজি রাসায়নিক, যা বোমা তৈরির উপকরণ হতে পারে।

ফলে অনুমান করা হচ্ছে, আতঙ্কে পালানোর সময় অসাবধানতাবশতই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইইডি-টি সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল না — তাই অপরিণত IED-এর প্রভাব সীমিত হয়েছিল। যদি সম্পূর্ণ সক্রিয় অবস্থায় বিস্ফোরণ ঘটত, তাহলে প্রাণহানি আরও ভয়াবহ হতে পারত।

তদন্তে জোর: আন্তর্জাতিক জঙ্গি যোগের সম্ভাবনা

গোয়েন্দা সংস্থাগুলি এখন international terror link খতিয়ে দেখছে। দিল্লির বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে। গাড়ির রুট ট্রেস করতে এবং উমরের সম্ভাব্য সহযোগীদের চিহ্নিত করতে তথ্য যাচাই করছে এনআইএ ও দিল্লি পুলিশ।

এক সিনিয়র গোয়েন্দা আধিকারিকের কথায়, “এই বিস্ফোরণ কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি high-grade chemical explosives-এর ব্যবহারের উদাহরণ। তদন্তের পরেই জানা যাবে এর পেছনে দেশীয় না আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক কাজ করেছে।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত