দিল্লির AQI ৪০০ ছাড়াল, শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে বাড়ছে আতঙ্ক। রাজধানী দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি ফের ভয়াবহ রূপ নিল। বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির AQI ৪০০ পেরিয়ে একাধিক অঞ্চলে ‘মারাত্মক’ স্তরে পৌঁছে যায়। হাওয়ার গতি কম, তাপমাত্রা ক্রমাগত নেমে যাচ্ছে—ফলে দূষণ সৃষ্টিকারী কণাগুলি বাতাসে থেকে গিয়ে ঘন ধোঁয়ার পর্দা তৈরি করেছে। এর জেরেই রাজধানীর আকাশ ধূসর, আর বাতাস হয়ে উঠেছে শ্বাসরুদ্ধকর।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB) জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দিল্লির বায়ুর মান দ্রুত উন্নতি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। বরং আগামী কয়েক দিনে দূষণ আরও বাড়তে পারে।


দিল্লির AQI ৪০০ পেরোল, ‘গ্যাস চেম্বার’ আতঙ্কে শ্বাসরুদ্ধ রাজধানী!

AQI ৪৭৭—দিল্লির দূষণ মানচিত্র ভয় ধরাচ্ছে:
CPCB–র তথ্য বলছে, বৃহস্পতিবার সবচেয়ে ভয়াবহ দূষণ দেখা গেছে ওয়াজিরপুরে, যেখানে AQI দাঁড়িয়েছে ৪৭৭। পাঞ্জাবি বাগ, মুন্ডকা, বাওয়ানা, আর কে পুরম—সব জায়গাতেই AQI ৪০০–৪৫০-এর মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।
কিছু অঞ্চলের AQI: ওয়াজিরপুর (৪৭৭), আর কে পুরম (৪২৪), জাহাঙ্গীরপুরী (৪৫৩), পাঞ্জাবি বাগ (৪৪১), বুরারি (৪১০), বাওয়ানা (৪৪৩)। এর বাইরে আয়ানগর, পুসা, জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের মতো জায়গাতেও AQI ‘খুব খারাপ’ থেকে ‘মারাত্মক’ স্তরের মধ্যে।
CPCB নিয়ম অনুযায়ী—
AQI ৪০১–৫০০ → ‘মারাত্মক’
AQI ৩০০–৪০০ → ‘খুব খারাপ’


অর্থাৎ, দিল্লির বহু অঞ্চল এখন সরাসরি ‘মারাত্মক’ স্তরে।

আর্থ সায়েন্সেস মন্ত্রকের রিপোর্ট আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তাদের মতে— আগামী ছয় দিন দিল্লির AQI থাকবে ‘খুব খারাপ’ থেকে ‘মারাত্মক’ স্তরে। তাপমাত্রা কমতে থাকলে ও বাতাস স্থির থাকলে দূষণের মাত্রা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। ফলে উৎসবের মরসুমে দিল্লিবাসীর জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
দূষণের উৎস—গাড়ির ধোঁয়া কমলেও রয়ে যাচ্ছে ভয়:
পুনের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ট্রপিক্যাল মেটিওরোলজি জানিয়েছে, বুধবার দিল্লির মোট দূষণের ১৮% ছিল গাড়ির ধোঁয়া এবং ৩.৮% এসেছিল ফসলের নাড়া পোড়ানো থেকে।
বৃহস্পতিবার এই হার কমে দাঁড়াতে পারে—
• গাড়ির ধোঁয়া: ১৬.১%
• নাড়া পোড়ানো: ২%
তবে পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল সমস্যা—বায়ুমণ্ডলে PM2.5 ও PM10 কণার জমাট বাঁধা। বাতাস বইছে না, তাই ধোঁয়ার স্তর ভাঙছে না।
‘বাচ্চাদের গ্যাস চেম্বারে পাঠানো হচ্ছে’—সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ক্ষোভ: রাজধানীর দূষণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ—নভেম্বর–ডিসেম্বরে দিল্লির বর্তমান বায়ুগুণে বাইরের খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া মানে বাচ্চাদের গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে দেওয়া।
এই মন্তব্যের পরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, খোলা আকাশে ইভেন্ট ও স্পোর্টস অ্যাকটিভিটি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে প্রশাসনকে। পরিবেশবিদদের মতে, দিল্লির দূষণ এখন সরাসরি স্বাস্থ্য–বিপর্যয়। শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্ট–প্রবণ মানুষের উপর এর প্রভাব ভয়ঙ্কর।
দিল্লির দূষণ: ক্রমশ জাতীয় সঙ্কটের রূপ
বিশেষজ্ঞদের দাবি—দিল্লির AQI এখন শুধু একটি শহরের সমস্যা নয়। এটি জাতীয় পর্যায়ের সঙ্কট।
কারণ— বায়ু দূষণের পরিণতি দীর্ঘমেয়াদি। ফুসফুসে স্থায়ী ক্ষতি, হৃদরোগ, মস্তিষ্কের কোষের ওপর প্রভাব—সবই এখন প্রমাণিত। সুতরাং দূষণ কমানোর ব্যাপারে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে আগামী শীত দিল্লির জন্য আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।








