নজরবন্দি ব্যুরোঃ দুঃসংবাদ ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মত। সেরকমই দ্রুততায় ছড়িয়ে পড়েছে খবর। বাঁকুড়ার মইদুল ইসলাম মিদ্যা প্রাণ হারিয়েছেন রাজ্য প্রশাসনের পুলিশের লাঠিতে। সকলকে ভাল রাখতে চেয়ে চলে গেছেন তিনি। মইদুলের এই মৃত্যুতে ক্ষোভে, রাগে ফেটে পড়েছে গোটা রাজ্য। কিন্তু মেদিনীপুরের পাশকুড়ার বহরপোতা গ্রামে উদ্বেগের ছায়া। বাঁকুড়ার মইদুল আর পাশকুড়ার দীপক দুজনেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন মুখমন্ত্রীর কাছে জবাব চাইতে। হাসপাতালের বেডে ৫ দিন লড়ে মইদুল কাল বাড়ি ফিরবেন, গ্রামের বাড়িতে মাটি দেওয়া হবে তাঁকে। গত ৫ দিনে বাড়ি ফেরেনি দীপক। নিখোঁজ তিনি।মইদুলের মৃত্যু উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দীপকের পরিবারের।
আরও পড়ুনঃ মমতার পুলিশ খুন করেছে, ‘হাল না ছাড়া’ কমরেডকে লাল সেলাম বিবি আলেয়ার।
নবান্ন অভিযানে অংশ নেওয়ার জন্য এলাকার বাকিদের সঙ্গে ১১ তারিখে সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বের হন দীপক। গোটা রাজ্য থেকে হাজার হাজার মানুষ সামিল হয় ওই অভিযান মিছিলে। আন্দোলন, পুলিশের অত্যাচার সব পেরিয়ে একে একে বাড়ি ফিরেছেন সকলে। কিন্তু তার পর থেকে আর পাওয়া যায়নি দীপকেকে। পরিবারের তরফ থেকে নিউমার্কেট থানায় নিখোঁজ ডাইরি করা হয়েছে। জানানো হয়েছে লালবাজারেও। দীপকব বাবুর স্ত্রী সরস্বতী দেবী জানিয়েছেন, “কোথায় আছেন, কীভাবে আছেন, কিছুই জানিনা।” এতদিন ধরে আশায় দিন গুনছিলেন পরিবার। কিন্তু সেই মিছিলের মধ্যে থেকেই যেভাবে হেরে গেলেন মইদুল, সেই পরিনতি দীপকের পরিবারের উদ্বেগ বাড়িয়েছে আরও কয়েক গুন।
মইদুলের মৃত্যু উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দীপকের পরিবারের। হতদরিদ্র দীপক জনগনের দাবীতে গলা মিলিয়ে মুখমন্ত্রীর কাছে আসেন। গোটা কলকাতা জুড়ে চলে আন্দোলন। রাজ্য পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, জলকামান, লাঠিচার্জ করে। আহত হন একাধিক ছাত্রনেতা-নেত্রী।পুলিশ তুলে নিয়ে যান অনেককে। কিন্তু খোঁজ পয়ায়া যায়নি দীপকের। বাড়িতে রোজগার করে আনলে দুমুঠো খেতে পান দীপকের পরিবার। ১,২ করে বুকে চিন্তা নিয়ে দিন কাটাচ্ছে পরিবার। এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি তাঁকে। দীপকের নিখোঁজে রাজ্যের প্রশাসনকেই দায়ি করছেন পাশকুড়ার বিধায়ক ইব্রাহিম আলি। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের গণতন্ত্রের গলা রোধ করছে প্রশাসন। আহত একাধিক কর্মী। মৃত্যু ঘটেছে ৩১ এর তরতাজা মইদুলের। এখনও যদি নড়ে না বসে রাজ্য প্রশাসন তাহলে আরও বড়ো আন্দোলনের দিকে যাবেন তাঁরা। ১১ এর নবান্নের অভিযানের প্রভাব কতদূর যাবে, খোঁজ মিলবে কবে দীপকের সব মিলিয়ে ভাবছে রাজ্য। ভাবছে দীপকের পরিবার।



