নজরবন্দি ব্যুরো: গত আগস্ট মাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার রহস্যমৃত্যু গোটা রাজ্যে সাড়া ফেলে দিয়েছিল। আওয়াজ তুলেছিল সব মহল। পুলিশ তদন্তে নেমে একাধিকজনকে গ্রেফতার করে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত ছাত্রের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এবার পুজোর আগেই তাঁদের বাড়িতে যান তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্য। মৃত কিশোরের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন উপহার।
আরও পড়ুন: পুজোর আগেই কয়েক হাজার কনস্টেবল ও প্যারা টিচার নিয়োগ, মন্ত্রিসভার বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত
দেবাংশুর সঙ্গে ছিলেন রানাঘাট পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সহ তৃণমূলের অন্যান্য নেতৃত্বরা। তৃণমূল নেতা বলেন, “আগে যখন এসেছিলাম তখনই বলে গিয়েছিলাম আরও একবার আসব। পুজোর সময়েই তো সন্তানহারা মায়েরা সবথেকে বেশি তাঁর সন্তানকে মনে করে। তাই আমার মনে হয়েছিল পুজোর আগে যদি আরও একবার দেখা করা যায়। ওর ভাইয়ের সঙ্গেও দেখা করে গেলাম।” তিনি আরও বলেন, “আমি বলেছি আমি আবার আসব। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত মাঝেমধ্যে আসা। যাতে ওনারা মনোবল পান।”

যাদবপুরকাণ্ডের তদন্ত নিয়ে দেবাংশু জানান, “মামলা এখন যথেষ্ট গতি নিয়েই চলছে। তদন্ত পূর্ণ গতিতে এগোচ্ছে। রাজ্য সরকার তার সবথেকে ভাল উকিলদের কাজে লাগিয়েছে। দোষীরা অবশ্যই শাস্তি পাবে।” গত মাসের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে নবান্নে যান প্রথম বর্ষের পড়ুয়ার বাবা-মা। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনায় শোকজ্ঞাপন করেন। সন্তানহারা মাকে বাড়ির কাছেই চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়। এছাড়া, নিহতের ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ রাজ্য সরকার নেবে বলেও জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

গত আগস্ট মাসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেন হস্টেলের তিন তলার বারান্দা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় প্রথম বর্ষের বাংলা বিভাগের ছাত্রের। পরিবারের তরফে র্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। পুলিশ তদন্তে নেমে প্রাক্তনী ও পড়ুয়া মিলিয়ে ১৩ জনকে গ্রেফতার করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেখানেও র্যাগিংয়ের তত্ত্ব পাওয়া যায়। যাদবপুরের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসেছিল ইউজিসির একটি প্রতিনিধি দল। ছাত্রমৃত্যুর পরই ক্যাম্পাসে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নেন নবনিযুক্ত অস্থায়ী উপাচার্য।
যাদবপুরের মৃত ছাত্রের বাড়িতে দেবাংশু, বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিলেন পুজোর উপহার




