আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম কমতে শুরু করায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন সাধারণ মানুষ। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই অপরিশোধিত তেলের বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এবার কি দেশের বাজারেও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হল?
শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম সামান্য কমে ব্যারেল প্রতি ৯৩ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই (WTI) ক্রুডও ৮৮ ডলার প্রতি ব্যারেলের আশেপাশে লেনদেন হতে দেখা যায়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তেলের বাজারে ব্যাপক ওঠানামা চলছিল।


বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং তেল সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশাই মূলত এই দাম কমার অন্যতম কারণ। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী আবার স্বাভাবিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব দেখা যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহণে বাধা কমতে পারে। যদিও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য, সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন মেলেনি। তবুও বাজারে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছতেই ক্রুড অয়েলের দামে বড় সংশোধন দেখা দিয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চলতি মাসেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২০ সালের পর সবচেয়ে বড় মাসিক পতনের রেকর্ড গড়তে পারে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার।


তাহলে কি পেট্রোল ও ডিজেলের দাম কমবে? সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে তেল বিপণন সংস্থাগুলির আমদানি খরচও কমে। সেই সুবিধা অনেক ক্ষেত্রে খুচরো জ্বালানির দামেও প্রতিফলিত হয়। তবে শুধুমাত্র ক্রুডের দাম কমলেই যে সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমবে, এমনটা নয়। এর সঙ্গে কর কাঠামো, সরকারি নীতি, বিপণন সংস্থার মূল্য নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল সরবরাহ এই পথের উপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছিল আন্তর্জাতিক দামের উপরও।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও তেল সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো মেরামত, বন্ধ তেলক্ষেত্র পুনরায় চালু করা এবং সরবরাহ চক্র স্বাভাবিক করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে।
ফলে আপাতত আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তির হাওয়া বইলেও দেশের পেট্রোল-ডিজেলের দামে কবে এবং কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক সপ্তাহে ক্রুড অয়েলের বাজার কোন দিকে এগোয় তার উপর।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



