সূর্যকান্ত মিশ্রের পর মহম্মদ সেলিম। সিপিআইএম-এর একমাত্র রাজ্য সম্পাদক যিনি ভোটের লড়াইয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সদ্য সমাপ্ত লোকসভায় বামেদের ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৮ জনের জামানত জব্দ হয়েছে। মুর্শিদাবাদে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছেন সেলিম। অথচ তাঁকে নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ দিনের পর দিন ক্রমেই বাড়ছে।
আরও পড়ুন: বামেদের সঙ্গে জোট করেই কংগ্রেসের সর্বনাশ, প্রদেশ সভাপতি থেকে অধীরকে সরানোর তোড়জোড় শুরু!


লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করবার জন্য গত বুধ এবং বৃহস্পতিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের পার্টি অফিসে একটি বৈঠক ডেকেছিল সিপিআইএম। সেখানেই মহম্মদ সেলিমকে কেন্দ্র করে কার্যত দ্বিবিভক্ত কমরেডরা। কৃষকসভার শীর্ষনেতা অমল হালদার প্রকাশ্যে সেলিমের প্রার্থী হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আবার, রাজ্য সম্পাদকের পাশে দাঁড়ান রানাঘাটের সিপিআইএম প্রার্থী অলোকেশ দাস।

সেই একুশের বিধানসভা নির্বাচন থেকে হাত ধরাধরি করে চলছে সিপিআইএম এবং কংগ্রেস। অন্যথা হয়নি এবারের লোকসভা নির্বাচনেও। মুর্শিদাবাদ থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মহম্মদ সেলিম। পাশেই বহরমপুর কেন্দ্রে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। অনেকেই ভেবেছিলেন, সেলিম-অধীর জুটি চমক দিতে চলেছেন। কিন্তু তা তো হয়নি উল্টে বামেদের সাহায্য নিতে গিয়ে পাঁচবারের সংসদ অধীর রাজনীতিতে নবাগত তৃণমূল প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে হেরে গিয়েছেন।
বামেদের একমাত্র দ্বিতীয় স্থানাধিকারী, সেই সেলিমের দক্ষিণপন্থী মনোভাবে কমরেডদের ক্ষোভ চরমে



দু’দিনের এই পর্যালোচনা বৈঠকে সিপিআইএম নিজেদের হারের কারণ অনুসন্ধান করে বেশ কয়েকটি তথ্যকে স্বীকার করে নিয়েছে। প্রথমত, বাংলার মানুষ বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছেন। দ্বিতীয়ত, নিচুতলায় বামেদের সংগঠন আজও জেলায় জেলায় দুর্বল। তৃতীয়ত, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বিরোধিতা করা উচিত হয়নি। চতুর্থত, বিজেমূল তত্ত্ব গ্রহনযোগ্যতা পায়নি। এছাড়া বুথস্তরের কর্মীরা কেউ কংগ্রেসের সাথে এই জোট আজও মেনে নিতে পারেননি, সামাজিক মাধ্যমে অতি আগ্রাসী মনোভাব নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে বামেদের বৈঠকে উঠে এসেছে।







