একুশের বিধানসভা থেকেই হাত ধরাধরি করে চলছে এককালের দুই যুযুধান প্রতিপক্ষ সিপিআইএম এবং কংগ্রেস। এই জোট এবারের লোকসভাতেও বহাল ছিল। আসন্ন উপনির্বাচনেও থাকছে। কিন্তু, কংগ্রেসের একাংশ আর এই জোট মেনে নিতে পারছেন না। সেক্ষেত্রে দায়ী করা হচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। তিনিই নাকি নিজের জেদে এই জোটকে টেনে নিয়ে জেতে চাইছেন।
আরও পড়ুন: রাজভবনে অনুমতি মেলেনি, এবার পুলিশের ডিজির দফতরের সামনে ধর্নায় বসতে চান শুভেন্দু!


শুক্রবার লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা করার জন্য একটি বৈঠক ডাকা হয় মৌলালি যুবকেন্দ্রে। প্রদেশ কংগ্রেসের পর্যালোচনা বৈঠকে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীরের কাছে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন কংগ্রেসের ব্লক এবং জেলা নেতাদের একাংশ। যদিও সিংহভাগই ছিলেন অধীরের পক্ষে। বিদ্রোহীদের দাবি, শুধু মাত্র নিজে জিততে চেয়ে আর উত্তরবঙ্গের কথা ভেবে বামেদের সঙ্গে জোট করেছেন অধীর। দক্ষিণের কথা ভাবেননি।

পাল্টা, অধীর সাফ বলেছেন, “এভাবে কাউকে একা দোষারোপ করা যায় না। আপনারা শুধু রাজ্যের কথা ভাবছেন। আমাকে গোটা দেশের কথা ভাবতে হয়েছে। তৃণমূল যেভাবে কংগ্রেসকে আক্রমণ করছিল, তাতে তৃণমূল বিরোধিতাকেই আমার কর্তব্য বলে মনে হয়েছিল।”
বামেদের সঙ্গে জোট করেই কংগ্রেসের সর্বনাশ, প্রদেশ সভাপতি থেকে অধীরকে সরানোর তোড়জোড় শুরু!



এখন আগামীদিনে অধীর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে থাকবেন কিনা সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। হাত শিবিরের অন্দরে কান পাতলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, অনেকেই চাইছেন অধীরের অপসারণ। গুজরাত থেকে আসা তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের কাছে এবার হার হয়েছে তাঁর। ফলে, নিজের কথা বলার জায়গা যেন কিছুটা কমেছে।
যদিও এই লোকসভায় বিধানসভার নিরিখে ১১তি বিধানসভা জিতেছে কংগ্রেস। সঙ্গে মালদহ দক্ষিণ থেকে জিতেছেন ইশা খান চৌধুরী। বামেরা একটি আসনও পায়নি। ফলে, কংগ্রেসের কর্মীরা মনে করছেন, সিপিআইএম-এর চেয়ে তাদের গ্রহণযোগ্যতা এখনও অনেক বেশি। তাই খামোকা এই জোট করে কী লাভ! কংগ্রেসের হাইকমান্ড আবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ফলে, অনেকটাই কোণঠাসা অধীর। এখন তাঁকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে রাখা হয় কিনা তা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জানা যাবে।







