ভোট পরবর্তী হিংসার প্রতিবাদে রাজভবনের সামনে ধর্নায় বসতে চেয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু কলকাতা পুলিশের তরফে তাঁকে অনুমতি না দেওয়া হলে তিনি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। সেক্ষেত্রেও আদালতের পর্যবেক্ষণ, রাজভবনের সামনে ১৪৪ ধারা জারি থাকে, তাই শুভেন্দু অধিকারীকে বিকল্প জায়গা খোঁজ করতে বলা হয়। এবার বিজেপি সূত্রে খবর, রাজ্য পুলিশের ডিজির দফতরের সামনে ধর্নায় বসতে চাওয়ার কথা হাই কোর্টে জানিয়েছেন শুভেন্দু।
আরও পড়ুন: ৩৭ জনের নামতালিকা প্রস্তুত, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পরপর যাদের তলব করবে CBI!


প্রসঙ্গত, গত বছর ৫ থেকে ১০ অক্টোবর রাজভবনের সামনে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা না পাওয়া নিয়ে মঞ্চ খাটিয়ে ধর্নায় বসেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দুকে ধর্নায় না বসতে দেওয়ার কারণ হিসেবে কলকাতা পুলিশ ১৪৪ ধারার কথা উল্লেখ করেছিল। অভিষেকের ক্ষেত্রে কেন সেই আইন প্রয়োগ হয়নি? শুভেন্দুর আইনজীবী জিজ্ঞেস করেন আদালতে। বিচারপতি অমৃতা সিনহা এই বিষয়েও মন্তব্য করেছেন।

একই জায়গায় কি করে দুই পৃথক পৃথক ব্যক্তির জন্য আলাদা আলাদা আইন হয় তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতি। তিনি পুলিশের কাছে অভিষেকের ধর্নার বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। তবে শুভেন্দুকে অমৃতা সিনহা এও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে রাজভবনের সামনে ১৪৪ ধারায় জারি থাকে, এ বিষয়ে পুলিশ কোনও ভুল করেনি। কিন্তু অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে তা কেন প্রযোজ্য হয়নি। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
রাজভবনে অনুমতি মেলেনি, এবার পুলিশের ডিজির দফতরের সামনে ধর্নায় বসতে চান শুভেন্দু!



দিন কয়েক আগেই রাজভবনে আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের নিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যপাল জানিয়েছেন, মোট এক হাজারের ওপর অভিযোগ জমা পড়েছে তাঁর কাছে। বাংলায় হিংসা বন্ধ হবেই, শুভেন্দুকে এরকম কথাও দিয়েছেন রাজ্যপাল। এবার শুভেন্দু রাজ্য পুলিশের ডিজির দফতরের সামনে ধর্নায় বসতে চাইলেন বলে জানালেন।
উল্লেখ্য, রাজ্য পুলিশের ডিজির দু’টি দফতর রয়েছে। একটি, ভবানীভবনে। অন্যটি, নবান্নে। ঠিক কোথায় ধর্নায় বসবেন শুভেন্দু তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। কারণ, ২১ জুনের মধ্যে বিকল্প জায়গা জানাতে নির্দেশ দেয় আদালত। সেই অনুযায়ীই জানানো হয়। এবার হাই কোর্ট অনুমতি দেয় কিনা সেটাই দেখার।







