নজরবন্দি ব্যুরো: আগামী লোকসভা নির্বাচনে সিপিআইএম-কংগ্রেস এই দুই দল যে জোট হিসাবেই লড়বে তা কার্যত নিশ্চিত। আর সেক্ষেত্রে, ২০১৯ সালের পুনরাবৃত্তি চায় না বামেরা। সেবারেও জোট হব হব করেও হয়ে উঠতে পারেনি শুধু অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের কারণে। তাই এবার দ্রুত কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা করে ফেলতে চাইছে আলিমুদ্দিন। সূত্রের খবর, নভেম্বরের গোড়াতেই প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
আরও পড়ুন: পর পর একাধিক মামলায় ধাক্কার জের, হাইকোর্টের সরকারি আইনজীবীকে সরাল নবান্ন
একটি প্রথম সারির বাংলা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিপিআইএমের কেন্দ্রীয় কমিটির এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, “তৃণমূল এবং বিজেপি বিরোধী ভোটকে একত্রিত করাটাই বাম এবং কংগ্রেসের এই মুহূর্তের মূল উদ্দেশ্য।” প্রসঙ্গত, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে শুধু সিপিআইএম এবং কংগ্রেস ছাড়াও আইএসএফকে জোট সঙ্গী হিসাবে বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যদিও সে সিদ্ধান্ত যথেষ্ট বিতর্কিত। এবারও ডায়মন্ড হারবারে নওশাদ সিদ্দিকীকে প্রার্থী হিসাবে মানতে নারাজ বামেরা। সেক্ষেত্রে লোকসভায় আইএসএফ কি এই জোটের অংশ হতে পারবে তা নিয়ে কিন্তু এখনও জল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০১৯ সালে সিপিআইএম এবং কংগ্রেসের মধ্যে জোট প্রায় নিশ্চিত হলেও শেষমেষ তা তিক্ততার পর্যায়ে পৌঁছেছিল। প্রকাশ্যে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন তৎকালীন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সৌমেন মিত্র এবং বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। সেই স্মৃতিকে মাথায় রেখেই এবার আগেভাগে নিজেদের সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত করতে চাইছে শতাব্দী প্রাচীন দুই দল।

উনিশের স্মৃতি মধুর নয়, কংগ্রেসের সঙ্গে দ্রুত আসন সমঝোতায় বসতে চায় বামেরা
একুশের বিধানসভাতেও মহাজোট করে ফলাফলে বিশেষ কোনও পরিবর্তন আসেনি। বরং রাজ্যে শূন্যে পৌঁছেছে কংগ্রেস এবং সিপিআইএম। একটি মাত্র আসন সেবার জেতে আইএসএফ। সে কারণেই আসন্ন লোকসভায় এই জোটকে গুরুত্ব দিতে নারাজ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখপাত্র কুনাল ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, “শূন্যের সঙ্গে শূন্য যোগ করলে শূন্যই হবে! তাই এই রাজ্যে বিজেপি কংগ্রেস সিপিএম সমার্থক।”
![]()



