বিধানসভা ভোটের আগে সিপিএম শিবিরে বড় ধাক্কা—রাজ্য কমিটি থেকে ইস্তফা দিলেন দলের তরুণ মুখ প্রতীক উর রহমান। শুধু পদ নয়, প্রাথমিক সদস্যপদও ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। এই হঠাৎ সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হলেও প্রশ্নের মুখে পড়েই বিষয়টিকে ‘অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক ব্যাপার’ বলে এড়িয়ে গেলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
প্রতীক উর রহমান বামেদের তরুণ প্রজন্মের অন্যতম পরিচিত মুখ। সাম্প্রতিক একাধিক নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিনি। কিন্তু ভোটের আগে তাঁর এই পদত্যাগে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে দলের ভিতরে কী ঘটছে।


এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে দলীয় কর্মসূচিতে মহম্মদ সেলিম বলেন, “এটি পার্টির অভ্যন্তরীণ এবং সাংগঠনিক বিষয়। এই ধরনের বিষয় সোশ্যাল মিডিয়া বা সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয় না। কমিটির বৈঠকেই এই নিয়ে আলোচনা হবে।” তিনি জানান, রাজ্য কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।
প্রতীক উরের দলত্যাগ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শ্যামল চক্রবর্তীর কন্যা ঊষসী চক্রবর্তী। ফেসবুকে তিনি লেখেন, “অনেক দিন আগে নেপাল দা বলেছিলেন—বাবা যদি ছেলেকে ত্যাজ্য করে, ছেলে কি বাবাকে ত্যাজ্য করে? কথাটা আজ মনে পড়ছে।” একই পোস্টে তিনি মাও সে তুংয়ের উদাহরণ টেনে লেখেন, “আমাদের কাছে জয়-পরাজয়ের চেয়ে মেরুদণ্ড সোজা রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
অন্যদিকে বামপন্থী অভিনেতা দেবদূত ঘোষও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, অন্যরা যে কারণে দল ছাড়েন, টাকা পেয়ে বা অন্য কারণে, প্রতীক উরের ক্ষেত্রে তা নয়। আমাদের দলে নৈতিক কারণে অনেক সময় মতভেদ হয়। এত বড় সংগঠনে এমনটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। প্রতীক উর লড়াকু নেতা, ভবিষ্যতেও তাঁকে সেই রূপেই দেখতে চাই।”


প্রতীক উর কেন দল ছাড়লেন, তার স্পষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। তবে তাঁর এই সিদ্ধান্ত ভোটের আগে সিপিএমের সংগঠনের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে।







