উত্তরাখণ্ডের শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী মোদি সরকারের কাছে গরুকে ‘রাষ্ট্রমাতা’ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি সরকারের কাছে ৩৩ দিনের চরম সময়সীমা রেখেছেন, যার মধ্যে গরুকে রাষ্ট্রমাতা ঘোষণা না করলে একটি বড় আন্দোলন চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। আগামী ১৭ মার্চ, ২০২৫ পর্যন্ত সরকার এই দাবি পূরণ না করলে দিল্লির রামলীলা ময়দানে একটি বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন শঙ্করাচার্য।
গরু রাষ্ট্রমাতা ঘোষণা করার দাবিতে আন্দোলন
গরুকে রাষ্ট্রমাতা ঘোষণা করার দাবি বহুদিন ধরেই হিন্দু সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ওঠে আসছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবির প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়া হয়নি। এই কারণে শঙ্করাচার্য ক্ষোভ প্রকাশ করে মঙ্গলবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি বলেন, “আগামী ১৭ মার্চের মধ্যে সরকার যদি গরুকে রাষ্ট্রমাতা ঘোষণা না করে, তবে দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘গো প্রতিষ্ঠা নির্ণায়ক দিবস’ অনুষ্ঠিত হবে।”


গো-ক্রান্তি মঞ্চ এবং পদযাত্রা
এটা নতুন নয় যে, শঙ্করাচার্য এই দাবি নিয়ে বহু দিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর গোপাল মণির ধর্মীয় সংগঠনের উদ্যোগে ‘গো-ক্রান্তি মঞ্চ’ আয়োজিত হয়, যেখানে চার শঙ্করাচার্য পীঠের সমর্থনও ছিল। এছাড়াও, ২০২৪ সালে গোবর্ধন থেকে দিল্লি পর্যন্ত পদযাত্রা আয়োজিত হয়, যেখানে একাধিক হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শঙ্করাচার্যের হুঁশিয়ারি
শঙ্করাচার্য বলেছেন, “এটি কেবল ধর্মীয় দাবি নয়, এটি একটি জাতীয় আন্দোলন হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও জানান যে, যদি সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক কোনো প্রতিক্রিয়া না আসে, তবে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন এবং পরবর্তী রণকৌশল রামলীলা ময়দান থেকেই ঠিক করা হবে।
এই বিষয়টি ধর্মীয় নেতা এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখতে হবে, মোদি সরকার এই দাবির প্রতি কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং গরু রাষ্ট্রমাতা ঘোষণা করা হবে কি না।









