নজরবন্দি ব্যুরোঃ চলতি বছরেই ভারতের বাজারে মিলবে করোনার দুই বিদেশি টিকা? এ বছরই ভারতের বাজারে মিলতে পারে দুটি বিদেশি করোনাভাইরাসের টিকা। প্রথমটি হল অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও অ্যাস্ট্রাজেনেকা সংস্থার তৈরি চ্যাডক্স১ বা কোভিশিল্ড। এবং দ্বিতীয়টি হল রাশিয়ায় তৈরি স্পুটনিক-ভি ভ্যাকসিন। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কর্তাদের আশা, এ বছরের শেষে এই দুই বিদেশি করোনা ভাইরাসের টিকা ভারতের বাজারে চলে আসবে।তবে টিকার দাম কত হবে, তা জানানো হয়নি।
আরও পড়ুনঃ ভ্যাকসিনকেই তুরুপের তাস বানিয়ে ভোটের তরী পার হতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন কে ফেজ-৩ ট্রায়ালের অনুমতি দিল ICMR। ভারতে অক্সফোর্ডের তৈরি করোনার প্রতিষেধক কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তথা চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হতে না হতেই স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। ভ্যাকসিন নিয়ে সেচ্ছাসেবক অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেরাম ভারতেও ট্রায়াল বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করে। কিন্তু ভ্যাকসিন নিরাপদ এই ঘোষণা হয়ার পর ফের শুরু হয়েছে সবকিছু। দ্য ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল অব ইন্ডিয়া অনুমতি দিয়েছে চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল চালানোর।
অন্যদিকে রাশিয়ায় তৈরি স্পুটনিক-ভি ভ্যাকসিন ভারতে ব্যবহার করার প্রশ্নে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চলছে। আজ ‘রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ (আরডিআইএফ) বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তারা ভারতের রেড্ডি’জ় ল্যাব-এর সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রায় ৩০ কোটি প্রতিষেধক উৎপাদন করবে। যার মধ্যে ভারতের বাজারে ছাড়ার জন্য ১০ কোটি প্রতিষেধক রেড্ডি’জ় ল্যাবকে দেওয়া হবে।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (ICMR)-এর ডিজি বলরাম ভার্গব জানিয়েছেন, ‘‘স্পুটনিক-ভি প্রতিষেধকের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল মেডিক্যাল জার্নাল ল্যানসেটে প্রকাশিত হয়েছে। ওই টিকা ব্যবহারে মানবদেহে কোনও ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে— এমন প্রমাণ মেলেনি। বরং শরীরে ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে।’’ অন্যদিকে ভারতের স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতে স্পুটনিক-ভি ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্বের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করবে রেড্ডি’জ় ল্যাব। ফলাফল সন্তোষজনক হলে টিকা ভারতে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে।
চলতি বছরেই ভারতের বাজারে মিলবে করোনার দুই বিদেশি টিকা? স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি চলতি বছরের নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যেই চলে আসবে ভারতের বাজারে। তবে তাঁর দাম কত হবে তা নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ট্রায়াল শেষে বাজারে আত্মপ্রকাশ করতে পারে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনও। যদিও বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন ভ্যাকসিন এলেও বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের কাছে তা থাকবে অধরা(যার মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের একটা অংশ থাকবে)। তাঁদের মন্তব্য, “৭৮১ কোটি বিশ্ববাসীর মধ্যে ২৩৪ কোটি (মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশ) জনগণের কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই।”



