নজরবন্দি ব্যুরোঃ সপ্তাহে ২ দিন লকডাউন ঘোষণার দিনে রাজ্যে আক্রান্ত ২২৮২, মৃত্যু ৩৫ জনের। বিপুল গতিতে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। সেলিব্রিটি থেকে সাধারন মানুষ ভাইরাসের হাত থেকে নিস্তার পাচ্ছেন না কেউই। রাজ্যের হাতে গোনা ২ – ৩ টি জেলা বাদ দিয়ে সব জেলাতেই কার্যত বায়ুবেগে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা ভাইরাস। প্রায় প্রতিদিনই তৈরী হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগণা, হাওড়া বা দক্ষিন ২৪ পরগণার সাথে সম্প্রতি পাল্লা দিতে শুরু করেছে দার্জিলিং দক্ষিন দিনাজপুর বা মালদার মত উত্তরের জেলাগুলি। কার্যত নজিরবিহীন সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রাজ্য।
আরও পড়ুনঃ ট্রায়াল সফল; আগস্টেই বাজারে মিলবে করোনা-র টিকা, বিশ্বকে স্বস্তি দিয়ে ঘোষণা রাশিয়ার।
সপ্তাহে ২ দিন লকডাউন ঘোষণার দিনে বুলেটিন দিয়ে রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে রাজ্যে গত ২৪ ঘন্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৮২ জন! নতুন ২ হাজার ২৮২ জন আক্রান্ত কে নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ৭৬৯ জন।পাশাপাশি মৃত্যুমিছিলও অব্যাহত রয়েছে রাজ্যে। এদিনের বুলেটিনে রাজ্য সরকার জানিয়েছে সার্বিক ভাবে গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু বেড়েছে আরও ৩৫ টি। ৩৫ জন কে নিয়ে রাজ্যে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪৭।পাশাপাশি গত ২৪ ঘন্টায় রাজ্য জুড়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫৩৫ জন। এদিনের ১৫৩৫ জন কে নিয়ে রাজ্যে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৬ হাজার ৪১৮ জন। এদিন ১৫৩৫ জন সুস্থ হয়ে রাজ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫৯.০১ শতাংশ করোনা আক্রান্ত।
অন্যদিকে এই মুহুর্তে রাজ্যে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৭ হাজার ২০৪ জন।অর্থাৎ গতকালের থেকে চিকিৎসাধীন আক্রান্ত বেড়েছে ৭১২ জন! পাশাপাশি রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় টেস্ট হয়েছে ১৩ হাজার ৩৮১। এখন পর্যন্ত রাজ্যে সর্বমোট টেস্টের সংখ্যা ৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৬৫। প্রতি ১০ লক্ষ মানুষ পিছু রাজ্যে পরীক্ষা হয়েছে ৭ হাজার ৯৬০ জনের। কার্যত করোনার তাণ্ডব রাজ্য জুড়ে!
প্রসঙ্গত আজ সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন ‘‘চলতি সপ্তাহে বৃহস্পতি ও শনিবার সম্পূর্ণ লকডাউন। পরের সপ্তাহে আপাতত বুধবার সম্পূর্ণ লকডাউন।’’ আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, ‘‘রাজ্যে কিছু জায়গায় গোষ্ঠী সংক্রমণ হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’’ তার কথায়, ‘‘বিভিন্ন স্তরের বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে যে, রাজ্যের কিছু কিছু জায়গায় গোষ্ঠী সংক্রমণ হচ্ছে।’’
এই প্রসঙ্গে কার্যত সরকারের তুলোধোনা করেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তী। গোষ্ঠী সংক্রমণ এবং সপ্তাহে দুদিন লকডাউন প্রসঙ্গে সুজন বলেন, ‘‘পাগলামোর সীমা থাকা উচিত। সবজান্তা মুখ্যমন্ত্রীর রাজত্বে বিপদ বাড়ছেই। সপ্তাহে দুদিন লকডাউনের মানে কি? বাকি ৫ দিন কি করোনার লকডাউন? কোন জাতীয় অঙ্ক এসব? কার বুদ্ধি? আবারও বলছি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। তাদের ডাকুন, ভরসা করুন – মাননীয়া।’’




