নজরবন্দি ব্যুরোঃ নববর্ষের দিন রেকর্ড ভাঙা সংক্রমণ বাংলায়। এক মাস আগেও যেখানে দৈনিক সংক্রমণ কমে নেমে গিয়েছিল ২০০-র ঘরে এখন সেটাই পেরিয়ে গিয়েছে ৬ হাজারের গণ্ডি। ভোট মিটলেই নিশ্ছিদ্র লকডাউন হবে বাংলায় তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু তারপর? কবে মিলবে মুক্তি? এদিকে সংক্রমনে টানা ১৫ দিনের বেশি হল বিশ্বের শীর্ষস্থানে রয়েছে ভারত। আর সার্বিক সংক্রমনে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে দেশ, ঠিক আমেরিকার পরেই।
আরও পড়ুনঃ করোনা থাবা রেল কর্মীদের শরীরে! বাতিল হাওড়া ও শিয়ালদহ স্টেশনের একাধিক ট্রেন


ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে জনমানসে। আগে জানা গিয়েছিলো একের থেকে এক সংক্রমণ ছড়াচ্ছিল এখন দেখতে পাওয়া যাচ্ছে তা একের থেকে অগণিত ছড়াচ্ছে। অর্থাৎ গোষ্ঠী সংক্রমণ। চিকিৎসকরা বলছেন এভাবে সংক্রমণ ছড়াতে থাকলে হাসপাতালে বেড পাওয়াই মুশকিল হবে।
এদিকে রাজ্যের সব জেলাতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ধরা পড়েছে ব্যাপকভাবে। গত ২৪ ঘন্টায় কলকাতা এবং উত্তর ২৪ পরগণাতে ব্যাপকভাবে বেড়েছে সংক্রমন। উত্তর থেকে দক্ষিণ, বাদ নেই কোন জেলাই। রাজ্য সরকারের বুলেটিন অনুযায়ী গত ২৪ ঘন্টায় শুধু কলকাতাতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬১৫ জন। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগণায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৫৪ জন। হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণার ক্ষেত্রে সংক্রমণের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৯৫ এবং ৪২২। এদিন বীরভূমে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮৩ জন। খুব একটা পিছিয়ে নেই মালদা বা হুগলীও।
নববর্ষের দিন রেকর্ড ভাঙা সংক্রমণ হল বাংলায়। আজ রাজ্যজুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, ৬ হাজার ৭৬৯ জন। যা নিয়ে রাজ্যে সার্বিক ভাবে মোট আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ লক্ষ ৩৬ হাজার ১৮৫ জন। এই বিপুল আক্রান্তের মধ্যে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩৬ হাজার ৯৮১ জন। এদিন রাজ্যে করোনা মৃত্যুর সংখ্যা ২২। যা নিয়ে এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১০ হাজার ৪৮০ জনের। কমছে সুস্থতার হার, গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ হাজার ৩৮৭ জন। যা সংক্রমণের গতির অর্ধেকেরও কম।


আজকের ২ হাজার ৩৮৭ জন কে নিয়ে এখন পর্যন্ত রাজ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৫ লক্ষ ৮৯ হাজার ৪২৪ জন। এদিনের বুলেটিনে রাজ্য সরকার জানিয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসের টেস্ট হয়েছে মোট ৪২ হাজার ১২১ টি। এখন পর্যন্ত রাজ্যে মোট টেস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৬ লক্ষ ৭৪ হাজার ৯৬২ টি। ১০০ টি টেস্ট পিছু রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৬.৫৮ শতাংশ। রাজ্য জুড়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৯২.৫৫ শতাংশ মানুষ। যা কয়েকদিন আগেও ছিল প্রায় ৯৮ শতাংশ।








