নজরবন্দি ব্যুরোঃ সংক্রমণের সর্বকালীন রেকর্ড রাজ্যে। পুজোর আগে করোনার দূর্বার গতি বাংলায়। দেশজুড়ে সার্বিক সংক্রমনের গতি কিছুটা কমলেও রাজ্যে কিছুটা থমকে ফের শুরু হয়েছে করোনাভাইরাসের গতিবৃদ্ধির দাপট। ফের হুহু করে বাড়ছে চিকিৎসাধীন আক্রান্তের সংখ্যা। আর চিকিৎসাধিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তেই কমতে শুরু করেছে সুস্থতার হার। কদিন আগেও রাজ্যে দৈনিক ৪৫ – ৪৬ হাজার টেস্ট হচ্ছিল কিন্তু বর্তমানে টেস্টের পরিমান কিছুটা কমেছে।
আরও পড়ুনঃ গুরুতর জালিয়াতির পর্দা ফাঁস। আপাতত বন্ধ নিউজ চ্যানেলের টিআরপি রেটিং!


করোনা ভাইরাসের প্রভাব পড়েছে রাজ্যের সব জেলাতেই। পুরুলিয়া ঝাড়গ্রামে প্রথম দিকে সংক্রমণের গতি কম থাকলেও পরবর্তীকালে ভালই বেড়েছে সংক্রমণের গতি। কলকাতা আর হাওড়া তে কয়েক সপ্তাহ আগে সংক্রমনের গতিতে কিছুটা লাগাম পড়লেও ফের বাড়তে শুরু করেছে আক্রান্তের সংখ্যা। পাশাপাশি উত্তর ২৪ পরগনায় সংক্রমণ বেড়েছে একই ভাবে। আজকের বুলেটিনে রাজ্য সরকার জানিয়েছে গত ২৪ ঘন্টায় করোনা ভাইরাসে সংক্রামিত হয়েছেন ৩ হাজার ৭২০ জন।
সংক্রমণের সর্বকালীন রেকর্ড রাজ্যে। আজকের ৩ হাজার ৭২০ জন কে নিয়ে রাজ্যের মোট আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লক্ষ ৯ হাজার ৪১৭ জন। এই বিপুল আক্রান্তের মধ্যে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৩১ হাজার ৯৮৪ জন। যা গতকালের থেকে ৮৭৯ জন বেড়েছে। পুজো যত এগিয়ে আসছে ততই সংক্রমণের গতি বাড়ছে রাজ্যে। ইতিমধ্যেই চিকিৎসকদের একটা বড় অংশ জানিয়েছেন এই হারে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকলে হাসপাতালে বেড পাওয়াই মুশকিল হবে।
একদিকে সংক্রমণের গতি বাড়ছে আর অন্যদিকে দীর্ঘ্যতর হচ্ছে মৃত্যুমিছিল। প্রতিদিন গড়ে ষাট জনের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন রাজ্যে। সবথেকে বেশি মৃত্যু হচ্ছে যারা কোমর্বিডিটিতে ভুগছেন তাঁদের। এখন পর্যন্ত রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৮৭০ জনের। মৃত ৫ হাজার ৮৭০ জনের মধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছেন ৬২ জন। উল্লেখ্য সেপ্টেম্বর ৩০ পর্যন্ত রাজ্যের মোট করোনা মৃত্যু সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৯৫৮, যা পুজোর মাস অক্টোবরের প্রথম পোনের দিনের মাথায় দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৮৭০!


অন্যদিকে গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩ হাজার ১৭৯ জন। আজকের ৩ হাজার ১৭৯ জন কে নিয়ে এখন পর্যন্ত রাজ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২ লক্ষ ৭১ হাজার ৫৬৩ জন। এদিনের বুলেটিনে রাজ্য সরকার জানিয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসের টেস্ট হয়েছে মোট ৪২ হাজার ৯০১ টি। এখন পর্যন্ত রাজ্যে মোট টেস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৮ লক্ষ ৬১ হাজার ৯৫ টি।
রাজ্যে প্রতি ১০ লক্ষ মানুষ পিছু টেস্ট হয়েছে ৪২ হাজার ৯০১ জনের। প্রতি ১০০ টি স্যাম্পেল টেস্ট পিছু রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৮.০১ শতাংশ। রাজ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৮৭.৭৭ শতাংশ।










