নজরবন্দি ব্যুরো: আসন্ন পঞ্চায়েত ভোট। ইতিমধ্যেই শাসক-বিরোধী তরজা চোখে পড়েছে। বিরোধী দলগুলি শাসক দল তৃণমূলকে আক্রমণ করতে পিছু পা হচ্ছে না। এরইমধ্য তৃণমূলকে বিঁধতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ফেললেন আইএসএফ নেতা বিশ্বজিৎ মাইতি। ‘তৃণমূলের দাদাদের’ হাত কেটে নেওয়ার নিদান দিলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক মহল। যদিও এই বিষয়ে দলীয় নেতাকে সমর্থন করছেন না আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী।
আরও পড়ুন: মন্ত্রী মনোজের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ! শিবপুরে পথে নামল বিজেপি
শনিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে আইএসএফের উদ্যোগে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএসএফ-এর রাজ্য চেয়ারম্যান তথা ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে আইএসএফ-এর রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ মাইতি বলেন, “মধ্যমগ্রামে যে দাদারা দাদাগিরি করছেন করুন। কিন্তু কোনও দাদা যদি পঞ্চায়েত নির্বাচনে আবারও হাতে লাল দাগা এবং বালা পড়ে ভোট লুট করতে যায়, সেই দাদাদের হাতটা কেটে নিতে পারবেন তো?” নওশাদের সামনেই দলীয় নেতার এমন নিদান ঘিরে বেশ অস্বস্তিতেই পড়েছেন ভাঙড়ের বিধায়ক।

সূত্রে খবর, বিশ্বজিৎ মাইতির এই মন্তব্যের পরই নাকি চোখের ইশারাতে নওশাদ বুঝিয়ে দেন তিনি ঠিক কথা বলেননি। যদিও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি আইএসএফ বিধায়ক। সাংবাদিকদের সামনে বিশ্বজিৎ মাইতি বলেন, “আমরা সংবিধান বিশ্বাস করি। সংবিধানের উপর ভরসা আছে। দলীয়ভাবে আমরা একটা কথাই বলে এসেছি যে, ভারতের মানুষের সামনে সংবিধানকে তুলে ধরা হোক। অথচ তৃণমূল যেভাবে ভোট লুঠ করছে, দেশের গণতন্ত্রকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের অধিকার লুণ্ঠিত হচ্ছে।”

আইএসএফ-এর রাজ্য সম্পাদক বিশ্বজিৎ মাইতির বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে নওশাদ বলেন, “এই ধরনের হুমকি বক্তব্যকে দল কোনওভাবেই সমর্থন করে না। গণতন্ত্রের পরিসরের মধ্যেই থাকা উচিত। আইনের মাধ্যমে শুধু হাত কাটা নয় কীভাবে জেলা রাখা যায় তার ব্যবস্থা করবে আইএসএফ।” কুড়মি, আদিবাসী এবং সাঁওতালি সমাজের বঞ্চিত ইস্যুর প্রভাব আসন্ন পঞ্চায়েত ভোটে পড়বে বলেও মনে করছেন ভাঙড়ের বিধায়ক।
TMC দাদাদের হাত কেটে নেওয়ার নিদান, আইএসএফ নেতার মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক




