নজরবন্দি ব্যুরোঃ নিজের গড় ধরে রাখতেই ব্যর্থ, অধীরের পদত্যাগ চাইছে কংগ্রেসেরই অন্দরমহল। ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় প্রথমবার আসা ইস্তক তিনি প্রবল মমতা বিরোধী বলে পরিচিত। তৃণমূলের বিধানসভা জয়ের ডাবলের পরেও তিনি নিজের অবস্থান থেকে এক বিন্দু সরে আসেননি। তিনি অর্থাৎ কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম একাধিক কঠিন সময়েও তিনি তাঁর মমতা বিরোধিতা বজায় রেখেছেন।
আরও পড়ুনঃ ৫ কেন্দ্রে নির্বাচন মিটতেই ঝোড়ো ইনিংস জ্বালানী তেলের, সেঞ্চুরির পথে পেট্রোল।


বরঞ্চ অতি বড় পরিবর্তবের ঝড়ের সময়েও তাঁকে বাম নেতাদের সঙ্গে গলায় গলায় কোলাকুলি করতে দেখা গিয়েছে। রাজ্যে পরিবর্তনের পরে বঙ্গ কংগ্রেসের অনেক নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদও কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেও তিনি উগ্র মমতা বিরোধীতার পথে হেঁটেছেন। এমন অবস্থায় ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নেত্রিত্ত্বের সম্মতিতে রাজ্যে তিনি হাত মেলান বামফ্রন্টের সাথে। তবে রাজ্য কংগ্রেসের অনেকেই এই জোট মানতে না পেরে বলেছিল এতে কংগ্রেসের ক্ষতি বই লাভ কিছু হবে না। বাস্তবেও তার প্রতিচ্ছবি দেখা গেলেও বামেদের কাঁধে ভর দিয়ে কংগ্রেস বাংলায় ৪৪টি আসন পেয়ে ফিরে পেয়েছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলের তকমা যা তৃণমূলের জন্মের পরে হারিয়ে ফেলেছিল কংগ্রেস।
ফলে দ্বিগুন উৎসাহে তিনি মমতা বিরোধিতার পথে হাঁটেন। ২০১৯ নির্বাচনে বিজেপির ভাল ফলের পরেও নিজের অবস্থান থেকে এতটুকু সরেননি অধীর বাবু। এবারের নির্বাচনে ফের জোট বেঁধেছিলেন রাজ্যে টিমটিম করে জ্বলা সিপিএমের সাথে। ফলাফলে দেখা যাচ্ছে দুই দলের টিমটিমে প্রদীপ সম্পূর্ণ নিভে গিয়েছে। রাজ্য নির্বাচনের ইতিহাসে প্রথমবার খাতাই খুলতে পারেননি দুই দলই। এমনকি নিজের গর মুর্শিদাবাদ যা একদা কংগ্রেসের দুর্গ বলে পরিচিত ছিল তাও পুরোটাই দখল নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। অধীরবাবুর নিজের কেন্দ্র বহরমপুরেও জিতেছে বিজেপি।
আর তারপরেই বাংলায় কংগ্রেসের বিপর্যয়ের জন্য অধীরবাবুকেই কাঠগড়ায় তুলছেন রাজ্য নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি বিজেপিকে আটকাতে যখন মমতার হাত ধরা উচিত ছিল অধীরের তখন সম্পূর্ণ উল্টো পথে হেঁটেছেন তিনি। তাঁর উগ্র মমতা বিরোধীতার জেরেই মানুষ কংগ্রেস থেকে মুখ ফিরিয়ে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছেন বিজেপির আগ্রাসন ঠেকাতে। দলের ৯ শতাংশ ভোট এবারের ভোটে চলে গিয়েছে তৃণমূলের বাক্সে। তার জেরেই রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলের আসন থেকে বাংলায় একদম ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছে কংগ্রেস।


নিজের গড় ধরে রাখতেই ব্যর্থ, অধীরের পদত্যাগ চাইছে কংগ্রেসেরই অন্দরমহল। এর দায় অধীরবাবুকেই নিতে হবে। তাঁর জন্যই এই বিপর্যয়। তাঁকে পদত্যাগ করতে হবে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে। ফলত ঘরে বাইরে যথেষ্ট অস্বস্তিতে অধীরবাবু। নিজের দলেই হালে পানি পাচ্ছেন না তিনি। এখন দেখার এর পর কোন খাতে বয় রাজ্য কংগ্রেসের গতিবিধি।







