পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের হোটেল শিল্পে। আচমকাই বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকটে পড়েছে দুই বড় শহর। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আগামী দু’দিনের মধ্যেই বেঙ্গালুরু ও মুম্বইয়ের বহু হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে শিল্পমহল। এতে বিপাকে পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হাজার হাজার কর্মী।
বর্তমানে Bengaluru এবং Mumbai—এই দুই শহরে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ আচমকাই বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে India Hotels and Restaurant Association। সংগঠনের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে রাজ্যের বহু হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিতে হতে পারে।


পরিস্থিতির পিছনে পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি Israel ও United States-এর যৌথ বাহিনীর হামলার পর থেকে উত্তেজনা বেড়েছে Iran-এ। এর জেরে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ Strait of Hormuz। এই পথ দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামও বাড়তে শুরু করেছে।
হোটেল মালিকদের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি জানিয়েছিল অন্তত ৭০ দিন গ্যাস সরবরাহে বড় সমস্যা হবে না। কিন্তু বাস্তবে বেঙ্গালুরুতে হঠাৎই বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ। বেঙ্গালুরু হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পি.সি. রাও জানিয়েছেন, দ্রুত সমাধান না হলে মঙ্গলবার থেকেই হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী Hardeep Singh Puri-র কাছেও অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের।
একই পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে মুম্বইয়েও। ইন্ডিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিজয় শেট্টি জানিয়েছেন, এভাবে জোগান বন্ধ থাকলে আগামী দু’দিনের মধ্যে শহরের অধিকাংশ হোটেলই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই রবিবার থেকে অনেক রেস্তোরাঁয় সিলিন্ডার সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।


হোটেল শিল্পকে কার্যত জরুরি পরিষেবার সঙ্গে তুলনা করছেন ব্যবসায়ীরা। বহু মানুষের রোজগার এই শিল্পের উপর নির্ভরশীল। পাশাপাশি ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী মানুষ এবং প্রবীণদের একটি বড় অংশ প্রতিদিনের খাবারের জন্য হোটেল বা রেস্তোরাঁর উপর নির্ভর করেন। ফলে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান বন্ধ হয়ে গেলে তার প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনেও।
এদিকে ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান নিয়েও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই আগেভাগে বুকিং করে রাখছেন। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সরকার আপাতত ঘরোয়া সিলিন্ডারের সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বুকিংয়ের ব্যবধানও ২০ দিনের পরিবর্তে ২৫ দিন করা হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে কালোবাজারির আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বাজার বিশেষজ্ঞদের একাংশ।









