নজরবন্দি ব্যুরোঃ পুজো আসছে বলে করোনাকে অবহেলা করা যাবে না, সতর্কবাণী মুখ্যমন্ত্রীর। করোনা আবহেই গতকাল উত্তরবঙ্গে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় । আজ সকাল থেকেই আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়ি, এই দুই জেলার আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। সেখানেই করোনা পরিস্থিতি নিয়ে সকলকে সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে সাফ জানিয়ে দেন, “পুজো আসছে বলে করোনাকে অবহেলা করা যাবে না।”
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে হচ্ছে না উপনির্বাচন। জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন।
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, মাইল্ড সিম্পটম(মৃদু উপসর্গ) থাকলে ঘরে থাকুন। অযথা হাসপাতালের বেড আটকানো যাবে না। হাতে গোনা আর মাত্র কটা দিন। তারপরই ঢাকে পড়বে কাঠি। শুরু হবে মাতৃবন্দনা। করোনাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়েই পুজো নিয়ে মেতে উঠেছে রাজ্যবাসী। তবে একটু আধটু ভয় সকলের মনেই রয়েছে। তাই প্রশসানেরও লক্ষ্য করোনাকে বেড়ি পরিয়ে সুস্থভাবে পুজো উদযাপন করা। কলকাতার পুজো কমিটিগুলোকে সরকারী বিধিনিষেধ ইতিমধ্যেই দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার পালা রাজ্যের। সেই কারণেই মঙ্গলবার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী পুজো নিয়ে সতর্কীকরণ করে দিলেন।
পুজো আসছে বলে করোনাকে অবহেলা করা যাবে না, সতর্কবাণী মুখ্যমন্ত্রীর। এদিন উত্তরবঙ্গের করোনা পরিস্তিতি নিয়ে খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী । মুখ্যসচিব রাজীব সিনহা জানান, “আলিপুরদুয়ারের পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। পজিটিভিটি রেট সামান্য বেড়েছে। তবে সংক্রমণকে আয়ত্তে রাখা গিয়েছে।” মৃত্যুর হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ডেথ রেট অনেকটাই কম। প্রোটোকল মানলে ডেথ রেট আরও কমানো যাবে।” পাশাপাশি, প্লাজমা থেরাপি করার পরামর্শও দেন তিনি। করোনা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পুজো আসছে, কিন্তু সেই কারণে কোনওভাবেই করোনাকে অবহেলা করা যাবে না।
পরিস্থিতির উপর সর্বদা নজর রাখতে হবে।” এরপরই তিনি বলেন, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে যে সমস্ত এলাকা এখনও গ্রিন জোন রয়েছে। সেখানে যাতে কোনওভাবে সংক্রমণ না প্রবেশ করতে পারে সেদিকে নজর রাখতে হবে। এদিনের বৈঠক থেকে স্বাস্থ্যকর্মী ও আশাকর্মীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, “সংক্রমণ বাড়লেও ওদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।” উল্লেখ্য রাজ্যজুড়ে করোনা সংক্রমিতের সংখ্যা হু হু করে বেড়ে চলেছে। প্রতিদিন বাংলায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ।
পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সুস্থতার হার। আজকের বৈঠকে প্রতিটি দপ্তর ধরে ধরে, প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতির খোঁজখবর নিলেন মুখ্যমন্ত্রী । অধিকাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে দেখে মোটের উপর সন্তুষ্ট হলেও রাশ আলগা করতে নারাজ তিনি। জোরের সঙ্গেই বললেন, ”১০০ শতাংশ কাজ যেন হয়।” বললেন, পেনশন আটকানো যাবে না। টাকা পাওয়া সত্ত্বেও যাঁরাও কাজ করছে না বলে রিপোর্ট পেলেন তিনি, তাঁদের কড়াভাবে জানিয়ে দিলেন, আগামী ৩ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতেই হবে।
প্রয়োজনে প্রশাসনিক কর্তারাই যেন মাঠে নেমে কাজ শুরু করেন। উদ্বাস্তুদের জমি সমস্যা সমাধান থেকে শুরু করে শ্রম দপ্তরের যেসব কাজ অল্প বাকি আছে, তা এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দিলেন। জোর করে কাজ আটকানো কিংবা ঢিলেমি কেউ করলে যে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে, তাও ফের মনে করালেন।



