নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বে নাজেহাল CPIM, মিনাক্ষীর সমালোচনা করে বাম যুবফ্রন্টের রোষানলে বিকাশ!

বিভিন্ন জেলার যুবনেতারা বিকাশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন সেলিমের সামনেই। তাঁদের বক্তব্য, কীভাবে একজন দলের নেতা হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে দলেরই একজন নেত্রীর সমালোচনা করতে পারেন বিকাশ?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর বামেদের তরুণ প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন সিপিআইএম-এর রাজ্যসভার সাংসদ তথা পেশায় আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য। বিশেষ করে যুবনেত্রী মিনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি বলেন, “ক্যাপ্টেন, আগুনপাখি বলা ব্যক্তিপ্রচার হচ্ছে।” আসলে, লোকসভায় মিনাক্ষী প্রার্থী না হলেও তাঁর নিজের বুথে সিপিআইএম ভোট পায় মাত্র ৪৬টি। সেই কারণেই সমালোচনা করেন বিকাশ।

শনিবার সিপিআইএম-এর যুব ফ্র্যাকশন কমিটির বর্ধিত বৈঠক ছিল শ্রমিক ভবনে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং আভাস রায়চৌধুরী। জানা যাচ্ছে, এই বৈঠকে বিভিন্ন জেলার যুবনেতারা বিকাশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন সেলিমের সামনেই। তাঁদের বক্তব্য, কীভাবে একজন দলের নেতা হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে দলেরই একজন নেত্রীর সমালোচনা করতে পারেন বিকাশ?

নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বে নাজেহাল CPIM, মিনাক্ষীর সমালোচনা করে বাম যুবফ্রন্টের রোষানলে বিকাশ!

প্রসঙ্গত, একটি সাক্ষাৎকারে বিকাশ এই মন্তব্য করেন। এরপরেই অবশ্য সেলিম নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, “অনেকে খবরে থাকতে চান। তাই পার্টিতে না বলে বাইরে বলছেন।” বিকাশের নিশানায় মিনাক্ষী ছাড়াও ছিলেন বাকি প্রার্থীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় বামেদের ‘অতি’ প্রচারকেও কটাক্ষ করেন তিনি।

নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বে নাজেহাল CPIM, মিনাক্ষীর সমালোচনা করে বাম যুবফ্রন্টের রোষানলে বিকাশ!

এবারের লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৮ জনেরই জামানত জব্দ হয়েছে। কোনও ক্রমে মুখরক্ষা করেছেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। একজন, মুর্শিদাবাদ। অন্যজন, দমদম থেকে ভোটে দাঁড়ান। এবারেও বামেদের প্রার্থী তালিকায় তরুণ মুখের আমদানি বেশ ভালো মাত্রায় ছিল। যাদবপুরে সৃজন ভট্টাচার্য, শ্রীরামপুরে দীপ্সিতা ধর বা তমলুকে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিলেন তাঁরা ভোটের আগে, প্রত্যেকেই জিতবেন বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু, ভোটের অঙ্কে সামান্য লড়াইটুকু তাঁরা দিতে পেরেছেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গিয়েছে।

নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বে নাজেহাল CPIM, মিনাক্ষীর সমালোচনা করে বাম যুবফ্রন্টের রোষানলে বিকাশ!

কুলটি বিধানসভার চলবলপুর গ্রামের বাসিন্দা মীনাক্ষী। সেখানেরই চলবলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩ নম্বর বুথে এবার ভোট দিয়েছিলেন তিনি। এবার কমিশনের তথ্য বলছে, সেই বুথেই বিজেপি ভোট পেয়েছে ৩৪৮টি, তৃণমূল পেয়েছে ২৩৬টি ভোট। আর কংগ্রেস সমর্থিত সিপিআইএম প্রার্থী জাহানারা খানের ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৪৬টি ভোট!

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত