নজরবন্দি ব্যুরোঃ চিনের রকেটে পৃথিবী বিধ্বস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেও মহাকাশ বিজ্ঞানীরা, তা কোথায় আছড়ে পড়বে, সে ব্যাপারে এখনও পর্যন্ত কোনও আভাস দিতে পারেনি।কয়েকদিন আগে একটি চিনা কার্গো স্পেশক্র্যাফট পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠে। জ্বলন্ত সেই টুকরো (Debris from China Space) পড়ে পৃথিবীতে।
আরও পড়ুনঃ অর্পিতার সাথে বিয়ে হয়েছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের, ‘অপা’-কে ঘিরে বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে।


চলতি সপ্তাহের মধ্যে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে আশঙ্কায় মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। জানা গেছে আগামী শনিবার চিনা কার্গো স্পেশক্র্যাফট পৃথিবীতে ভেঙে পড়তে পারে। রকেটটি করে স্পেশ স্টেশন তৈরির জন্য কিছু বৈজ্ঞানিক সামগ্রী পাঠানো হয়েছিল। প্রায় ১০০ ফুট লম্বা এবং ২২ টনের এই রকেট নিম্নকক্ষপথে পৌঁছে মাধ্যাকর্ষণ এবং বায়ুমন্ডলীয় টানে পৃথিবীতে নেমে আসবে এমনটাই কথা রয়েছে।

সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোফিজিক্স -এর মহাকাশবিদ জোনাথন ম্যাকডোয়েল মনে করছেন এই ঘটনাটি শনিবারই ঘটতে পারে। কিন্তু পৃথিবীর কোন অঞ্চলে এই রকেট (China Rocket) প্রবেশ করবে, তা এখনও অজানা।
মহাকাশ বিজ্ঞনীদের মতে, যেই মুহুর্তে রকেটটি নিম্মকক্ষপথে এসে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল স্পর্শ করবে, তখনই সেটা ভেঙে পড়তে পারে। যেহেতু রকেটটি আয়তন বিশাল, তাই দু হাজার কিলোমিটার জুড়ে ধ্বংসবশেষ বৃষ্টির মতে ঝড়ে পড়তে পারে। যদিও এই ঘটনায় বড়সড় ক্ষতির কথা নস্যাৎ করে দিয়েছেন মহাকাশবিদরা।


তবে, সমুদ্র, জঙ্গল কিংবা মরুভূমিতে রকেটের ধ্বংসাবশেষ পড়ার সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছে তাঁরা।
এদিকে চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ধ্বংসাবশেষের দ্বারা বিমান চলাচল বা মাটিতে থাকা মানুষ ও সম্পত্তির ক্ষতি হওয়া সম্ভাবনা খুবই কম। পুনঃপ্রবেশের সময় রকেটের বেশিরভাগ উপাদান ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
এক মহাকাশ বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এই রকেট ধ্বংসাবশেষ ভূমিতে মানুষ এবং সম্পত্তির উপর সামগ্রিক ঝুঁকি মোটামুটি কম। কারণ, ধ্বংসাবশেষের সম্ভাব্য পথে পৃথিবীর পৃষ্ঠের ৭৫ শতাংশ জল, মরুভূমি বা জঙ্গল।
শীঘ্রই পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়তে চিলেছে চিনা রকেট, প্রবল ক্ষতির সম্ভাবনা

তবে ২০২০ সালের ঘটনা তুলে ধরে রকেটের টুকরোগুলি একটি জনবহুল এলাকায় নেমে আসার সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেন না কেউ কেউ। ২০২০ সালের মে মাসে যখন একটি চীনা লং মার্চ ৫বি টুকরো আইভোরি কোস্টে অবতরণ করেছিল। এর ফলে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটির বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ২০২১ সালে লং মার্চ ৫বি রকেটের (5B Rocket) সঠিক ডি-অরবিট পরিকল্পনা না করার জন্য সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল বেজিংকে। রকেটের একটি বড় অংশ অনিয়ন্ত্রিত পুনঃপ্রবেশের পর্যায়ে ছিল।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



