নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘জৈব অস্ত্র’ করোনার আক্রমন হতে পারত ২০১৫ তেই, চাঞ্চল্যকর তথ্যে কাঠগড়ায় চীন। ২০১৯ সালের শেষদিকে চীনের উহান থেকে মারণ করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বে। সেই থেকে ২০২১ এর মে পর্যন্ত বিশ্ব এখনও করোনা মুক্ত তো হতেই পারেনি বরং ভারতের মত বেশ কিছু দেশ করোনার কামড়ে রীতিমতো বিপর্যস্ত।
আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বদলে কোভিড বাহিনী পাঠান বাংলায়, মমতার পর মোদীকে চিঠি অধীরের
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে করোনার ঢেউ বিশ্বজুড়ে আছড়ে পড়ার পর, আমেরিকার তত্কালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম করোনাকে ‘চাইনিজ ভাইরাস’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনুযোগ করে চিন বলেছিল, এত মানুষের মৃত্যু হয়েছে যে দেশে সেই চিনকে করোনার জন্য দোষী করা নিরর্থক। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করে আদৌ উহানের পশু বাজার থেকে নাকি চীনের জৈব গবেষণাগার থেকে মারণ ভাইরসকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে গোটা বিশ্বে। সেই বিতর্ক চলতে থাকলেও চীন বরাবরই ব্যাপারটা অস্বীকার করে গেছে। তবে এবার চীনের এক ভাইরোলজিস্ট লি-মেং বেশ কিছু চীনা নথি প্রকাশ্যে এনেছেন। চিনা ভাষায় লেখা ওই নথি লি-মেং ইংরেজিতে অনুবাদ করে টুইটারে পোস্ট করে দাবি করেছেন চিনের সামরিক বিজ্ঞানীরা ২০১৫ সালেই করোনাকে জৈব অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই গোটা বিশ্বে ফের চাঞ্চল্য শুরু হয়েছে।
ইতিমধ্যেই বিশ্বের দরবারে ফের কাঠগড়ায় চীন। অনেকেই মনে করছেন ‘সার্স করোনাভাইরাস’ নিয়ে চিনের অনেক গোপন পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে গেল। কি রয়েছে সেই নথিতে? ট্যুইটে লি-মেং ইয়ান লিখেছেন, “সার্স-কভ-২ ভাইরাসটি চিনের সরকারি গবেষণাগারে তৈরি করা হয়েছে এবং চিনের সামরিক বিভাগের বিজ্ঞানীরা সার্স করোনাভাইরাসকে জৈব হাতিয়ার রূপে ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করছেন।” শুধু তাই নয়, নথিতে উল্লেখ রয়েছে, করোনাকে জৈব অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেই দিয়েই নাকি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের লড়াই হবে। তবে এই নিয়ে চীনের পক্ষ থেকে এখনও কোন বিবৃতি মেলেনি। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞই আবার বছর তিনের আগের চিনের সংবাদপত্র পিপলস ডেলি চায়নার একটি প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, “চিনের ভাইরোলজি ইন্সটিটিউট ইবোলার চেয়ে ভয়ংকর এক জীবাণু নিয়ে গবেষণা করছে। ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছিল এর জন্য। বণ্যপ্রাণী বাজার থেকে মাত্র দশ মাইল দূরে তৈরি করা হয়েছিল।”
‘জৈব অস্ত্র’ করোনার আক্রমন হতে পারত ২০১৫ তেই, চাঞ্চল্যকর তথ্যে কাঠগড়ায় চীন। বিতর্কের মাঝেই লি-মেং এর এই টুইট বিতর্কে নতুন করে ঘি ঢালল। এখন দেখার এর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয় চীন প্রশাসন। কারন একাধিক বার দেখা গেছে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতেই কঠিন শাস্তির মুখে পরেছে চীনা নাগরিকেরা। যার মধ্যে রয়েছেন জ্যাক মা এর মত বড় নামের শিল্পপতিও।



