ফের মঙ্গলবার সন্দেশখালির ১২ জায়গায় নতুন করে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এই নিয়ে তৃতীয় দফায় জারি করা হল ১৪৪ ধারা (Section 144)। ৪৬ দিন পরেও অধরা সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা শেখ শাহজাহান। এবার তাকে হাইকোর্টে তলব করলেন প্রধান বিচারপতি। ঐদিন আদালতে হাজিরা দিতে হবে রাজ্য পুলিশ, ইডি এবং সিবিআইকে। প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের যুক্তি, যাকে কেন্দ্র করে এত ঘটনা তাঁকে সমর্থন করতে পারে না রাজ্য সরকার। রাজ্য পুলিশকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন প্রধান বিচারপতি।

আরও পড়ুন: সন্দেশখালিতে গ্রামবাসীদের অভিযোগ শুনলেন শুভেন্দু, দিলেন শাহজাহানকে ফিনিশ করার হুঙ্কার!
শেখ শাহজাহানকে (Sheikh Shahjahan) রাজ্যের পুলিশ রক্ষা করছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি বলেন,”এমন ব্যক্তিকে রক্ষা করা হচ্ছে কি না আমরা জানি না। তবে মনে হচ্ছে, হয় রাজ্য পুলিশ তাঁকে রক্ষা করছে, না হলে তিনি পুলিশের আওতার বাইরে চলে গিয়েছেন। ” পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “পলাতক শাহজাহানকে আত্মসমর্পণ করতে বলুন। এত দিন ধরে ঐ ব্যাক্তিকে কেন্দ্র করে এত সমস্যা। শাহজাহান প্রকাশ্যে এসে তো বলতে পারেন এই সব অভিযোগ সঠিক নয়। কারও জমি নেওয়া হয়নি।”
ঘটনাচক্রে আজই সন্দেশখালি গেছে সিপিআইএমের বৃন্দা কারাত ও বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে এক সপ্তাহ আগেই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়। তবে মঙ্গলবার সেই মামলা তিনি পাঠিয়ে দেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে। সেখানেই মামলাটির শুনানি হয়। প্রধান বিচারপতি বলেন, “এক জন ব্যক্তি পুরো সমস্যার জন্য দায়ী। অথচ তিনি কিনা জনপ্রতিনিধি! মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচন করেছেন। যেখানে জনগণের স্বার্থে ওই ব্যক্তির কাজ করা উচিত, সেখানে প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে, তিনি জনগণের ক্ষতিই করেছেন।”

হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সন্দেহপ্রকাশ, শাহজাহানকে রক্ষা করছে রাজ্য পুলিশ
প্রসঙ্গত, শাহজাহান শুধু সন্দেশখালির (Sandeshkhali) তৃণমূলের সংগঠনের প্রধান নন, তিনি জেলা পরিষদের সদস্যও। শাহজাহান এবং তাঁর দুই সঙ্গী উত্তম হাজরা এবং শিবপ্রসাদ হাজরার বিরুদ্ধে এলাকায় অত্যাচার চালানোর অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসীরা। শিবপ্রসাদ এবং উত্তমের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগও দায়ের হয়েছে। রেশন দুর্নীতি মামলায় তার বাড়ীতে ইডি (ED) আধিকারিকরা গেলে গত ৫ জানুয়ারি তাদের ওপর হামলা করা হয়। তারপর থেকেই কার্যত উতপ্ত সন্দেশখালি। দফায় দফায় চলছে অশান্তি। চলছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।



