কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-এর বেঁধে দেওয়া ‘চরম সময়সীমা’ শেষ হতে আর দেড় মাসও বাকি নেই। তার আগেই মাওবাদী দমনে বড় সাফল্যের দাবি প্রশাসনের। যৌথ বাহিনীর লাগাতার অভিযানের পাশাপাশি জোরদার হয়েছে আত্মসমর্পণ পর্বও। সেই আবহেই শুক্রবার ছত্তিশগড়-এ আরও ৯ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করলেন। ধামতারি জেলা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণকারী এই মাওবাদীদের মাথার উপর সব মিলিয়ে ছিল ৪৭ লক্ষ টাকার পুরস্কার।
রায়পুর রেঞ্জের আইজিপি অমরেশ মিশ্র জানান, আত্মসমর্পণকারী ৯ জনের মধ্যে ৭ জনই মহিলা। তাঁরা সকলেই ওড়িশার নাগরি ও সীতানদী এরিয়া কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। দীর্ঘদিনের জঙ্গলজীবন, কট্টর মাওবাদী মতাদর্শ এবং ক্রমাগত নিরাপত্তা বাহিনীর চাপে বীতশ্রদ্ধ হয়েই তাঁরা মূলস্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে অন্যতম হলেন সীতানদী এরিয়া কমিটির সম্পাদক জ্যোতি এবং শাখা কমিটির সদস্য ঊষা ওরফে বলম্মা। তাঁদের দু’জনের মাথার দাম ছিল ৮ লক্ষ টাকা করে। সরকারের পুনর্বাসন নীতি, আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক পুনর্গঠনের আশ্বাসও আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের।
আইজিপি অমরেশ মিশ্র বলেন, “রায়পুর রেঞ্জের ধামতারি ও গড়িয়াবন্দ জেলায় যে ক’জন শীর্ষ মাওবাদী নেতা-নেত্রী সক্রিয় ছিলেন, তাঁদের বেশিরভাগই হয় নিহত হয়েছে, নয়তো আত্মসমর্পণ করেছে। কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়েও গিয়েছে।” আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে পাঁচটি ইনসাস রাইফেল, দু’টি এসএলআর, একটি কার্বাইন এবং একটি মাজল লোডিং বন্দুক উদ্ধার হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে মাওবাদীমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সেই লক্ষ্য পূরণে ছত্তিশগড়কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চলতি বছরেই রাজ্যে ১৮৯ জন মাওবাদী আত্মসমর্পণ করেছেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫০০।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক অভিযান, নেতৃত্বস্তরের ক্ষয় এবং পুনর্বাসন নীতির সম্মিলিত প্রভাবেই মাওবাদী সংগঠনের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। শাহের নির্ধারিত সময়সীমার আগে এই আত্মসমর্পণ পর্ব সেই দাবিকেই আরও জোরালো করছে।



