গণেশ চতুর্থী মানেই সিদ্ধিদাতা গণেশের আরাধনা। ধর্মীয় বিশ্বাসে, যে কোনও শুভ কাজের আগে গণেশের নাম স্মরণ করা হয় বিঘ্ন দূর এবং শুভবুদ্ধির প্রার্থনায়। গণেশ চতুর্থীর দিনে ভক্তরা পুজোর পাশাপাশি গণেশের মন্ত্র ও অষ্টোত্তর শতনামাবলী পাঠ করেন।
২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার। পঞ্জিকা অনুযায়ী, চতুর্থী তিথি শুরু হচ্ছে ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে। গণেশ পুজোর মধ্যাহ্নকালীন শুভ সময় প্রায় সকাল ১০টা ১৮ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত।
এই বিশেষ দিনে গণেশের ১০৮ নাম জপ করতে চান? রইল গণেশ অষ্টোত্তর শতনামাবলীর একটি প্রচলিত পাঠ, জপের নিয়ম এবং এর ধর্মীয় গুরুত্ব।
গণেশের ১০৮ নাম কেন জপ করা হয়?

হিন্দু ধর্মীয় পরম্পরায় ১০৮ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা। বিভিন্ন দেবদেবীর অষ্টোত্তর শতনামাবলীতে ১০৮টি নামের মাধ্যমে দেবতার বিভিন্ন গুণ, রূপ ও মাহাত্ম্য স্মরণ করা হয়।
গণেশের ১০৮ নামকে বলা হয় গণেশ অষ্টোত্তর শতনামাবলী। ভক্তরা বিশ্বাস করেন, ভক্তি ও একাগ্রতার সঙ্গে এই নামগুলি স্মরণ করলে মন শান্ত হয় এবং শুভকাজে গণেশের কৃপা প্রার্থনা করা যায়।
তবে “১০৮ নাম জপ করলেই নিশ্চিতভাবে সব সমস্যা দূর হবে”—এমন নিশ্চয়তা ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়; এটিকে বাস্তব জীবনের ফলাফলের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়। [গণেশ পুজো কবে ২০২৬? জেনে নিন গণেশ চতুর্থীর তিথি ও পুজোর শুভ সময়]
গণেশের ১০৮ নাম: অষ্টোত্তর শতনামাবলী
নিচে একটি প্রচলিত গণেশ অষ্টোত্তর শতনামাবলীর পাঠ দেওয়া হল। অঞ্চল ও পুজোর পরম্পরা অনুযায়ী কিছু নামের উচ্চারণ বা পাঠে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে।
১ থেকে ২৭
১. ওঁ গজাননায় নমঃ
২. ওঁ গণাধ্যক্ষায় নমঃ
৩. ওঁ বিঘ্নরাজায় নমঃ
৪. ওঁ বিনায়কায় নমঃ
৫. ওঁ দ্বৈমাতুরায় নমঃ
৬. ওঁ দ্বিমুখায় নমঃ
৭. ওঁ প্রমুখায় নমঃ
৮. ওঁ সুমুখায় নমঃ
৯. ওঁ কৃতিনে নমঃ
১০. ওঁ সুপ্রদীপায় নমঃ
১১. ওঁ সুখনিধয়ে নমঃ
১২. ওঁ সুরাধ্যক্ষায় নমঃ
১৩. ওঁ সুরারিঘ্নায় নমঃ
১৪. ওঁ মহাগণপতয়ে নমঃ
১৫. ওঁ মান্যায় নমঃ
১৬. ওঁ মহাকালায় নমঃ
১৭. ওঁ মহাবলায় নমঃ
১৮. ওঁ হেরম্বায় নমঃ
১৯. ওঁ লম্বজঠরায় নমঃ
২০. ওঁ হ্রস্বগ্রীবায় নমঃ
২১. ওঁ মহোদরায় নমঃ
২২. ওঁ মদোত্কটায় নমঃ
২৩. ওঁ মহাবীরায় নমঃ
২৪. ওঁ মন্ত্রিণে নমঃ
২৫. ওঁ মঙ্গলস্বরায় নমঃ
২৬. ওঁ প্রমথায় নমঃ
২৭. ওঁ প্রথমায় নমঃ
২৮ থেকে ৫৪
২৮. ওঁ প্রাজ্ঞায় নমঃ
২৯. ওঁ বিঘ্নকর্ত্রে নমঃ
৩০. ওঁ বিঘ্নহর্ত্রে নমঃ
৩১. ওঁ বিশ্বনেত্রে নমঃ
৩২. ওঁ বিরাট্পতয়ে নমঃ
৩৩. ওঁ শ্রীপতয়ে নমঃ
৩৪. ওঁ বাক্পতয়ে নমঃ
৩৫. ওঁ শৃঙ্গারিণে নমঃ
৩৬. ওঁ আশ্রিতবৎসলায় নমঃ
৩৭. ওঁ শিবপ্রিয়ায় নমঃ
৩৮. ওঁ শীঘ্রকারিণে নমঃ
৩৯. ওঁ শাশ্বতায় নমঃ
৪০. ওঁ বলায় নমঃ
৪১. ওঁ বলোত্থিতায় নমঃ
৪২. ওঁ ভবাত্মজায় নমঃ
৪৩. ওঁ পুরাণপুরুষায় নমঃ
৪৪. ওঁ পুষ্পে নমঃ
৪৫. ওঁ পুষ্করোত্ক্ষিপ্তবারিণে নমঃ
৪৬. ওঁ অগ্রগণ্যায় নমঃ
৪৭. ওঁ অগ্রপূজ্যায় নমঃ
৪৮. ওঁ অগ্রগামিনে নমঃ
৪৯. ওঁ মন্ত্রকৃতে নমঃ
৫০. ওঁ চামীকরপ্রভায় নমঃ
৫১. ওঁ সর্বায় নমঃ
৫২. ওঁ সর্বোপাস্যায় নমঃ
৫৩. ওঁ সর্বকর্ত্রে নমঃ
৫৪. ওঁ সর্বনেত্রে নমঃ
৫৫ থেকে ৮১
৫৫. ওঁ সর্বসিদ্ধিপ্রদায় নমঃ
৫৬. ওঁ সিদ্ধয়ে নমঃ
৫৭. ওঁ পঞ্চহস্তায় নমঃ
৫৮. ওঁ পার্বতীনন্দনায় নমঃ
৫৯. ওঁ প্রভবে নমঃ
৬০. ওঁ কুমারগরবে নমঃ
৬১. ওঁ অক্ষোভ্যায় নমঃ
৬২. ওঁ কুঞ্চরাসুরভঞ্জনায় নমঃ
৬৩. ওঁ প্রমোদায় নমঃ
৬৪. ওঁ মোদকপ্রিয়ায় নমঃ
৬৫. ওঁ কান্তিমতে নমঃ
৬৬. ওঁ ধৃতিমতে নমঃ
৬৭. ওঁ কামিনে নমঃ
৬৮. ওঁ কপিত্থপনসপ্রিয়ায় নমঃ
৬৯. ওঁ ব্রহ্মচারিণে নমঃ
৭০. ওঁ ব্রহ্মরূপিণে নমঃ
৭১. ওঁ ব্রহ্মবিদ্যাদিদানভুবে নমঃ
৭২. ওঁ জিষ্ণবে নমঃ
৭৩. ওঁ বিষ্ণুপ্রিয়ায় নমঃ
৭৪. ওঁ ভক্তজীবিতায় নমঃ
৭৫. ওঁ জিতমন্মথায় নমঃ
৭৬. ওঁ ঐশ্বর্যকারণায় নমঃ
৭৭. ওঁ জ্যায়সে নমঃ
৭৮. ওঁ যক্ষকিন্নরসেবিতায় নমঃ
৭৯. ওঁ গঙ্গাসুতায় নমঃ
৮০. ওঁ গণাধীশায় নমঃ
৮১. ওঁ গম্ভীরনিনদায় নমঃ
৮২ থেকে ১০৮
৮২. ওঁ বটবে নমঃ
৮৩. ওঁ অভীষ্টবরদায় নমঃ
৮৪. ওঁ জ্যোতিষে নমঃ
৮৫. ওঁ ভক্তনিধয়ে নমঃ
৮৬. ওঁ ভাবগম্যায় নমঃ
৮৭. ওঁ মঙ্গলপ্রদায় নমঃ
৮৮. ওঁ অব্যক্তায় নমঃ
৮৯. ওঁ অপ্রাকৃতপরাক্রমায় নমঃ
৯০. ওঁ সত্যধর্মিণে নমঃ
৯১. ওঁ সখয়ে নমঃ
৯২. ওঁ সরসাম্বুনিধয়ে নমঃ
৯৩. ওঁ মহেশায় নমঃ
৯৪. ওঁ দিব্যাঙ্গায় নমঃ
৯৫. ওঁ মণিকিঙ্কিণীমেখলায় নমঃ
৯৬. ওঁ সমস্তদেবতামূর্তয়ে নমঃ
৯৭. ওঁ সহিষ্ণবে নমঃ
৯৮. ওঁ সততোত্থিতায় নমঃ
৯৯. ওঁ বিঘাতকারিণে নমঃ
১০০. ওঁ বিশ্বগ্দৃশে নমঃ
১০১. ওঁ বিশ্বরক্ষাকৃতে নমঃ
১০২. ওঁ কল্যাণগুরবে নমঃ
১০৩. ওঁ উন্মত্তবেশায় নমঃ
১০৪. ওঁ অপরাজিতায় নমঃ
১০৫. ওঁ সমস্তজগদাধারায় নমঃ
১০৬. ওঁ সর্বৈশ্বর্যপ্রদায় নমঃ
১০৭. ওঁ আক্রান্তচিদচিৎপ্রভবে নমঃ
১০৮. ওঁ শ্রীবিঘ্নেশ্বরায় নমঃ

গণেশের ১০৮ নাম কীভাবে জপ করবেন?
গণেশ চতুর্থীর দিন সকালে স্নান করে পরিষ্কার পোশাক পরে পুজোর জায়গা প্রস্তুত করতে পারেন। গণেশের মূর্তি বা ছবির সামনে প্রদীপ জ্বালিয়ে ফুল, দূর্বা, ফল ও মোদক বা লাড্ডু নিবেদন করা যায়।
এরপর কয়েক মিনিট মন শান্ত করে গণেশের ধ্যান করে অষ্টোত্তর শতনামাবলী পাঠ করা যেতে পারে।
যাঁরা মালা ব্যবহার করেন, তাঁরা নিজের প্রচলিত পুজোর নিয়ম অনুযায়ী জপ করতে পারেন। তবে ১০৮ নাম পাঠের ক্ষেত্রে প্রতিটি নাম মন দিয়ে উচ্চারণ করাই মূল বিষয়।
গণেশ চতুর্থীতে কোন মন্ত্র জপ করবেন?
গণেশের একটি বহুল প্রচলিত মন্ত্র হল—
“ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ।”
এছাড়াও পুজোর সময় গণেশের নামস্মরণ ও অষ্টোত্তর শতনামাবলী পাঠ করা হয়। ধর্মীয় পরম্পরা অনুযায়ী, ভক্তি ও একাগ্রতার সঙ্গে মন্ত্রজপকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়।
গণেশ চতুর্থী ২০২৬ কবে?
২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী পালিত হবে ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার।
কলকাতার হিসাবে চতুর্থী তিথি ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে শুরু হয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে শেষ হবে। গণেশ পুজোর মধ্যাহ্নকালীন শুভ সময় ১০টা ১৮ মিনিট থেকে ১২টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত বলে Drik Panchang-এর কলকাতা-সংলগ্ন গণনায় উল্লেখ রয়েছে। পঞ্জিকা ভেদে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে।
গণেশ চতুর্থী: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার
চতুর্থী তিথি শুরু: ১৪ সেপ্টেম্বর, সকাল ৭:০৬
চতুর্থী তিথি শেষ: ১৫ সেপ্টেম্বর, সকাল ৭:৪৪
পুজোর মধ্যাহ্নকাল: সকাল ১০:১৮–দুপুর ১২:৪৬
প্রধান বিসর্জন: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, অনন্ত চতুর্দশী
গণেশ পুজোয় কী কী নিবেদন করবেন?

গণেশ পুজোয় প্রচলিতভাবে দূর্বা ঘাস, লাল ফুল, ফল, মোদক বা লাড্ডু এবং অন্যান্য নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। তবে পরিবারের প্রচলিত রীতি বা স্থানীয় পুরোহিতের নির্দেশ অনুযায়ী উপাচারে পার্থক্য থাকতে পারে।
গণেশের পুজোয় বিশেষভাবে দূর্বা নিবেদনের প্রচলন রয়েছে। অনেক পরিবারে লাল ফুল এবং মোদকও নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হয়।
১০৮ নাম জপের ধর্মীয় গুরুত্ব কী?
গণেশকে হিন্দু ধর্মীয় পরম্পরায় বিঘ্নহর্তা, সিদ্ধিদাতা এবং শুভকাজের সূচনায় স্মরণীয় দেবতা হিসেবে মানা হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই নতুন কাজ, পুজো বা কোনও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের আগে গণেশের নাম স্মরণ করার রীতি রয়েছে।
গণেশের ১০৮ নামের প্রতিটি নাম তাঁর কোনও না কোনও রূপ, গুণ বা মাহাত্ম্যকে স্মরণ করায়। তাই অষ্টোত্তর শতনামাবলী পাঠকে শুধুমাত্র মন্ত্রজপ নয়, গণেশের বিভিন্ন নাম ও গুণ স্মরণের একটি ধর্মীয় পদ্ধতি হিসেবেও দেখা হয়।
গণেশ চতুর্থীতে ১০৮ নাম জপের আগে যা মনে রাখবেন
- পুজোর জায়গা পরিষ্কার রাখুন।
- সম্ভব হলে স্নান করে পরিষ্কার পোশাকে পুজোয় বসুন।
- মন্ত্র বা নাম উচ্চারণের সময় মনোযোগ ধরে রাখুন।
- পরিবারের প্রচলিত পুজোর নিয়ম মেনে চলুন।
- কোনও নির্দিষ্ট মন্ত্র বা আচারের বিষয়ে দ্বিধা থাকলে পুরোহিত বা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় পরম্পরার নির্দেশ নিন।
- ধর্মীয় বিশ্বাসকে নিশ্চিত বাস্তব ফলাফলের প্রতিশ্রুতি হিসেবে না দেখে ভক্তি ও আধ্যাত্মিক অনুশীলন হিসেবে গ্রহণ করুন।
গণেশের ১০৮ নাম: গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর
গণেশের ১০৮ নাম কী?
গণেশের অষ্টোত্তর শতনামাবলী হল গণেশের ১০৮টি নামের একটি প্রচলিত ধর্মীয় পাঠ। বিভিন্ন পরম্পরায় নামের পাঠে কিছু পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
গণেশের ১০৮ নাম কখন জপ করবেন?
গণেশ চতুর্থী, সংকট চতুর্থী বা অন্যান্য গণেশ-আরাধনার দিনে ভক্তরা ১০৮ নাম জপ করতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট সময় বাধ্যতামূলক—এমন একক নিয়ম সব পরম্পরায় নেই।
গণেশের ১০৮ নাম জপ করতে কি মালা প্রয়োজন?
না। মালা ব্যবহার করা যেতে পারে, আবার কোনও মালা ছাড়াও একাগ্রতার সঙ্গে নামগুলি পাঠ করা যায়।
গণেশের কোন মন্ত্র সহজে জপ করা যায়?
“ওঁ গং গণপতয়ে নমঃ” একটি বহুল প্রচলিত গণেশ মন্ত্র। জপের সংখ্যা ও পদ্ধতি নিজের ধর্মীয় পরম্পরা অনুযায়ী নির্ধারণ করা যেতে পারে।
২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী কবে?
২০২৬ সালে গণেশ চতুর্থী ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার। কলকাতার হিসাবে চতুর্থী তিথি ১৪ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৬ মিনিটে শুরু এবং ১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা ৪৪ মিনিটে শেষ হবে।
গণেশ চতুর্থীতে কী নিবেদন করা হয়?
প্রচলিতভাবে দূর্বা, ফুল, ফল, মোদক বা লাড্ডু-সহ বিভিন্ন নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। পরিবারের পুজোর রীতি অনুযায়ী উপাচারে পার্থক্য হতে পারে।
শেষ কথা
গণেশ চতুর্থীর দিনে ১০৮ নাম জপ বহু ভক্তের কাছে ভক্তি, একাগ্রতা ও শুভ সূচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুশীলন। ২০২৬ সালের গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে পুজোর পাশাপাশি গণেশ অষ্টোত্তর শতনামাবলী পাঠ করতে চাইলে উপরের প্রচলিত পাঠটি অনুসরণ করতে পারেন।
ভক্তির মূল বিষয় শুধু সংখ্যা নয়—মনোযোগ, শ্রদ্ধা এবং নিজের ধর্মীয় পরম্পরা মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।



