নজরবন্দি ব্যুরোঃ কেন্দ্র সরকারের একাধিক প্রকল্পের নাম বদল করে নিজেদের নামে চালাচ্ছে রাজ্য সরকার। এবিষয়ে কেন্দ্রের কাছে অভিযযোগ জানিয়েছিল বিজেপি। স্টিকার লাগিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে রাজ্য। বিজেপি নেতাদের এই অভিযোগে সাড়া দিল কেন্দ্র। আবাস যোজনায় ‘প্রধানমন্ত্রী’ না থাকলে এক টাকাও নয়। কেন্দ্রের তরফে নবান্নকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হল । সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নের তরফে এই মর্মে চিঠি দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারকে।
আরও পড়ুনঃ Presdidential Election: বিরোধীদের প্রস্তাব ফেরালেন ফারুক আবদুল্লাহ, কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন মমতাকে
২০১৬-১৭ আর্থিক বছর থেকে রাজ্য সরকারের তরফে চালু করা হয় বাংলা আবাস যোজনা। যাঁদের বাড়ি নেই অথবা মাটির বাড়ি রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা চালু করে রাজ্য সকার। ২০১৭ সালে এবিষয়ে রাজ্য সরকারকে চিঠি দেয় কেন্দ্র। এমনকি গত মাসেই এবিষয়ে সাবধান করে চিঠি দিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু রাজ্যের তরফে কোনও সদুত্তর না পেয়ে বিরাট পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র।
একই সঙ্গে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন প্রকল্প ‘আবাস প্লাস’ বাবদও বাংলাকে কোনও টাকা দেওয়া হবে না। কেন্দ্রের তরফে নবান্নকে চিঠি দিয়ে এবিষয়ে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। তাতে বাংলার বদলে প্রধানমন্ত্রীর নাম ওই যোজনায় যুক্ত না করা পর্যন্ত নতুন টার্গেট দেওয়া হবে না। এমনটাই সূত্রের খবর।

চলতি সপ্তাহেই কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের বকেয়া টাকার খোঁজ নিতে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহের সঙ্গে দেখা করে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। তৃণমূলের মুখ্য সচেতক সুখেন্দুশেখর রায়, লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল-সহ ১০ জন দলীয় সাংসদ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আবাস যোজনা বাবদ কেন রাজ্যের টাকা আটকে রাখা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এর পরেই গিরিরাজের মন্ত্রক চিঠি পাঠাল নবান্নকে।
সূত্রের খবর, চিঠিতে এটাও বলা হয়েছে যে, কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে চালানোর যে নিয়মাবলী রয়েছে, নামবদল তারও পরিপন্থী। রাজ্যে আবাস যোজনার নামে ‘প্রধানমন্ত্রী’ বদলে ‘বাংলা’ করায় নিয়মভঙ্গ হয়েছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

নাম বদলের এই অভিযোগ অনেক আগে থেকেই বিজেপির তরফে তোলা হচ্ছিল। সেই তালিকায় ছিল বাংলা আবাস যোজনা, মিশন নির্মল বাংলা এবং বাংলা গ্রামীণ সড়ক যোজনা। এমনকি এবিষয়ে জেলাশাসকদের নামেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে নালিশ জানান সুকান্ত মজুমদার এবং শুভেন্দু অধিকারীরা। এটা ‘ইচ্ছাকৃত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেও দাবি করেন শুভেন্দু।
আবাস যোজনায় ‘প্রধানমন্ত্রী’ না থাকলে এক টাকাও নয়, সাফ জানাল কেন্দ্র

অন্যদিকে, কেন্দ্রের বকেয়া টাকা না মেটানোয় বারবার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারবার একশো দিনের কাজের বকেয়া টাকা চেয়েও কোনও উত্তর পাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চলতি মাসেই এর বিরোধিতায় আন্দোলনে সরব হয় তৃণমূল। পাল্টা জবাবে বাংলায় এসে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা বলেন, তিন বছর ধরে কেন্দ্রকে এই প্রকল্পের হিসাব পাঠায়নি রাজ্য। মমতা দিদি কি হিসাব দিতে ভুলে গিয়েছেন? কোনও প্রকল্পের টাকা পেতে গেলে সময়ে হিসাব দিতে হয়। কেন্দ্র যদি হিসাব না পেয়ে টাকা পাঠায় তবে সেটা ভুল হবে। সেই ভুল করবে না কেন্দ্রীয় সরকার।



