নয়াদিল্লি: ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট করে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে ব্যবস্থা নেওয়ার নাম করে এ বার গোটা দায়িত্বটাই যেন বিরোধীদের কাঁধে চাপিয়ে দিল কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার লোকসভায় কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju) সাফ জানিয়ে দিলেন, “আপনারা যে দিন, যে ভাবে, যতক্ষণ ধরে আলোচনা করতে চাইবেন, সরকার তাতেই রাজি। কিন্তু কোনও পূর্বশর্ত মানা হবে না।” অথচ মোদী সরকার জানে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের (Dharmendra Pradhan) ইস্তফা ছাড়া আলোচনায় বসতে নারাজ বিরোধীরা। এই অবস্থানে অনড় থাকলে যে আদতে সংসদে আলোচনা হতেই পারে না, সেটা ভালো করেই জানে শাসক শিবির। তাহলে কি বিরোধীদের ‘ফাঁদে’ ফেলার আরও এক কৌশল নিল বিজেপি?
লোকসভায় রিজিজু এ দিন বলেন, “আমরা কংগ্রেসের (Congress) এবং অন্য বিরোধী দলের সাংসদদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে কথা বলেছি। আমরা তাঁদের পরামর্শ জানানোর জন্য বলেছি। বিরোধীদের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, দয়া করে আলোচনার সময়সূচি স্থির করুন।” কিন্তু সেই সঙ্গেই তাঁর কড়া বার্তা, “আমরা তৈরি, কিন্তু আপনারা শর্ত জুড়ে দিচ্ছেন। কোনও অজুহাত দেবেন না। শর্ত দিলেই সবাই বুঝে যাবে যে আপনারা আসলে আলোচনা এড়িয়ে যেতে চাইছেন।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) বৃহস্পতিবার সকালেই প্রশ্নফাঁসে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। এর পরেই রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) তিন দফা দাবি তুলে ধরেন— ধর্মেন্দ্রের ইস্তফা, পড়ুয়াদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। কিন্তু রিজিজুর বক্তব্যে স্পষ্ট, সরকার এই দাবিগুলোকে ‘পূর্বশর্ত’ বলেই গণ্য করছে। অর্থাৎ, ইস্তফার দাবি না ছাড়লে সংসদে আলোচনা হবে না— এই অবস্থানেই অনড় বিজেপি।
এ দিনও সংসদে একই চিত্র। ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার দাবিতে হট্টগোল, মুলতুবি। বাইরে মকর দ্বারের (Makar Dwar) সামনে বিরোধীদের পাশাপাশি পাল্টা বিক্ষোভ করলেন এনডিএ (NDA) সাংসদেরাও। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের যুবসমাজকে প্ররোচিত করছেন রাহুল। সব মিলিয়ে সংসদের অচলাবস্থা যে আপাতত কাটছে না, তা স্পষ্ট।



