আরজি কর ধর্ষণ এবং খুন নিয়ে মূল একটা মামলা তো সুপ্রিম কোর্টে চলছেই, এরই মধ্যে মঙ্গলবার আরজি কর ইস্যুতেই শীর্ষ আদালতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করল কেন্দ্র সরকার। এই অভিযোগ আনা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে, অর্থাৎ অমিত শাহের দফতর। অভিযোগ, আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে যে সমস্ত সিআইএসএফ জওয়ানরা এসেছিলেন তাঁদের থাকা-খাওয়ার উপযুক্ত ব্যবস্থা করতে তৃণমূল সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
হাসপাতাল চত্বরে আপাতত মোতায়েন করা হয়েছে মোট ১৮৫ জন জওয়ানকে। ক্যাম্পাসের কে বি বয়েজ এবং মেন বয়েজ হোস্টেলে তিন শিফটে ২ জন করে মোট ১২ জন জওয়ানকে মোতায়েন করা হচ্ছে। লেডিজ কমন রুম হোস্টেল, ভেরি নিউ লেডিজ হোস্টেল, ইন্টার্ন হোস্টেল, ওল্ড হাউস স্টাফ অ্যান্ড পিজি হোস্টেল, ডরমেটরি-সহ এসজিপিজি হোস্টেল, রাত্রিনিবাস হোস্টেল এবং ওল্ড অ্যান্ড নিউ নার্সিংয় হোস্টেলের মতো মোট ৭ হোস্টেলেও তিন শিফটে ২ জন করে মোট ৪২ জনকে মোতায়েন করা হয়েছে। শুধু হোস্টেল নয়, হাসপাতালের একাধিক বিল্ডিং ও মেন গেটেও আধাসেনা মোতায়েন করা আছে। কিন্তু, তাঁদের থাকা খাওয়া নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।


সুপ্রিম কোর্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আবেদন করেছে, যদি খুব দ্রুত জওয়ানদের এই সমস্যা না সমাধান করা হয় তাহলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করা হোক। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টে মূল মামলার শুনানি। সোমবার সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন আরজি কর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। আজ, মঙ্গলবার লালবাজারে গিয়ে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসক ফ্রন্টের ২২ জনের প্রতিনিধিদল পুলিশ সুপার বিনীত গোয়েলের হাতে তাঁরই পদত্যাগের শংসাপত্র তুলে দিয়েছে।
গত ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের চারতলার সেমিনার হল থেকে এক মহিলা চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, চেস্ট মেডিসিন বিভাগের ওই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে করেছে গ্রেপ্তার করেছে। যদিও তদন্তভার রয়েছে সিবিআই-এর হাতে। আদালতের নির্দেশেই তা হয়েছে। সঞ্জয়ও সিবিআই হেফাজতে রয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ এবং আরও তিনজন। সবাইকেই ৮ দিনের সিবিআই হেফাজত দিয়েছে আলিপুর বিশেষ আদালত।
বিগত ১৪ আগস্ট আরজিকর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রাত দখলের ডাক দিয়েছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মহিলারা। প্রতিবাদের মধ্যেই একদল দুষ্কৃতি আরজি কর হাসপাতালে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এরপর থেকেই সেখানে আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ১৫৮ জন রয়েছেন সব মিলিয়ে। তাঁদেরকে হোস্টেলে তিনটি শিফটে দু’জন করে মোট ১২ জন, লেডিজ হোস্টেল, ইন্টার্ন হোস্টেল ইত্যাদি মোট ৭টি হোস্টেলে তিনটি শিফটে দু’জন করে মোট ৪২ জনকে মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও বাহিনী রয়েছে হাসপাতালের মেনগেট ও অন্যান্য বিল্ডিং-এর গেটে।









