কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র লিক হয়নি। যদিও সিবিআই তদন্ত চলছে এই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস কান্ডে। আর সেই তদন্তেই উঠে আসছে একেরপর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিবিআই সূত্রে খবর, প্রায় ১২ কোটির বিনিময়ে NEET-এর প্রশ্নপত্র বিক্রি হয়েছিল বিহার ও গুজরাটে। পড়ুয়ারা নিটের প্রশ্নপত্র কিনেছিলেন ৩৫ থেকে ৬০ লাখ টাকা দিয়ে। বিহারের পড়ুয়াদের ৩৫-৪৫ লাখ টাকায় প্রশ্ন বিক্রি করা হয়েছিল। আর বাকি পড়ুয়াদের ৫৫-৬০ লাখ টাকায় প্রশ্ন বিক্রি করা হয়েছিল।

সিবিআই তদন্তে দেখা গিয়েছে অন্তত ১৫০জনেরও বেশি পড়ুয়া এই প্রশ্নপত্র কিনেছিল। যদিও শুধু এই টাকাই নয়, পড়ুয়াদের কাছ থেকে আরও ২০ লক্ষ টাকার পোস্ট ডেটেড চেক নিয়েছিল প্রশ্ন বিক্রেতারা। সব মিলিয়ে এক এক জনের কাছ থেকে ৮০ লক্ষ টাকায় রফা হয়েছিল প্রশ্নপত্র কেনা বেচার। যে পরীক্ষাকেন্দ্র গুলি থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছিল, সেগুলি হল গুজরাটের গোধরা, মহারাষ্ট্রের লাতুর, ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ, পাটনা সহ দেশের একাধিক শহরে। বেশিরভাগ টাকা নগদে দেওয়া হয়েছিল। প্রচুর পাসবুক চেক, এটিএম কার্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে CBI-এর তরফে।

সব থেকে বেশি প্রশ্নপত্র বিক্রি হয়েছে গুজরাট এবং বিহারে। সিবিআই সূত্রে খবর এখন পর্যন্ত ১৫০ জনের হদিশ পেলেও আরও পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্র কিনেছিলেন বলে আন্দাজ করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। তদন্তে এনটিএ প্রায় ২০ জন সন্দেহজনক পড়ুয়ার তালিকা ইকোনমিক অফেন্স উইংসে পাঠিয়েছিল। তারা ওই পরিক্ষার্থীদের জেরাও করেছিল। সেই মামলা এখন সিবিআই এর কাছে গিয়েছে। এখন সিবিআই দেখছে ঠিক কতজন পড়ুয়ার কাছে এই প্রশ্ন গিয়েছিল।
১২ কোটির বিনিময়ে NEET-এর প্রশ্নপত্র বিক্রি হয়েছিল বিহার ও গুজরাটে, বিস্ফোরক তথ্য

উল্লেখ্য বিষয় হল, প্রায় কোটি টাকার বিনিময়ে প্রশ্নপত্র কিনেও ভাল ফল করতে পারেননি অনেক পরীক্ষার্থী। আয়ূষ রাজ বলে একজন অভিযুক্ত কেবলমাত্র ৬০০ নম্বর পেয়েছেন। অনুরাগ বলে একজন পেয়েছেন মাত্র ৫ নম্বর কেমিস্ট্রিতে। তদন্তে জানা গিয়েছে এইসব পরীক্ষার্থীরা শুধু টাকার জোরে পাশ করতে চেয়েছিলেন। পড়াশুনায় এদের বেশিরভাগই খারাপ।



