যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভার দিন তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে বাম ছাত্রদের সঙ্গে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সংঘর্ষে ব্যাপক অশান্তি তৈরি হয়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী মঙ্গলবার।
অশান্তির ঘটনায় পুলিশ নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ


মামলাকারীর দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তির ঘটনায় পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। গত শনিবার, ওয়েবকুপার বার্ষিক সাধারণ সভার দিন বাম ছাত্ররা বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে শুরু করে এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এরপর ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো একাধিক ইস্যুতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে ওঠে, যখন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পাল্টা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
মামলাকারীর অভিযোগ, বাম ছাত্রদের বিরুদ্ধে কোনো এফআইআর নেওয়া হয়নি, অথচ তাদের মেসে তল্লাশির নামে হেনস্তা করা হচ্ছে। পুলিশের এই নিষ্ক্রিয়তা এবং ছাত্রদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাঙচুর ও হামলা


এদিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূলের শিক্ষাবন্ধু সমিতির অফিসেও ব্যাপক ভাঙচুর হয় এবং সেখানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়ির চাকার হাওয়াও খুলে দেওয়া হয়, যা তার জন্য বেশ বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। পরবর্তীতে, ধাক্কাধাক্কিতে আহত হন শিক্ষামন্ত্রী, যাকে পরে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাজ্য রাজনীতিতে অশান্তির প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে এসএফআই। এর ফলে কোচবিহার, শিলিগুড়ি, মেদিনীপুরে একাধিক দফায় অশান্তির ছবি ধরা পড়েছে। এই পরিস্থিতি রাজ্য সরকার এবং বিরোধী দলের মধ্যে সংঘর্ষের একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করেছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



