রাতেই ক্যামাক স্ট্রিটে টাঙানো হল তৃণমূলের ব্যানার, পুলিশকে বার্তা, আদালতে যাবেন অভিষেক

কলকাতা পুরসভার অভিযানে ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের তৃণমূলের সাইনবোর্ড খুলে দেওয়ার পর রাতেই ফের ব্যানার টাঙানো হল। পুলিশকে কড়া বার্তা দিয়ে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি অভিষেকের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: সন্ধ্যায় কলকাতা পুরসভার হাতে তৃণমূলের সাইনবোর্ড খুলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরের বাইরে দেখা গেল দলের ব্যানার। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) জানিয়ে দিলেন, বিষয়টি আদালত পর্যন্ত নিয়ে যাবেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

ক্যামাক স্ট্রিটের সাত তলায় অভিষেকের দফতরের বাইরে থাকা তৃণমূলের নাম ও প্রতীক-সহ বড় সাইনবোর্ডটি বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলে দেয় কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। পুরসভার দাবি ছিল, সেটি বেআইনি ভাবে নির্মিত। অভিযান ঘিরে শুরু থেকেই উত্তেজনা তৈরি হয়। দফতরে ঢোকার সময় পুর আধিকারিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাস্থলে পৌঁছন অভিষেক নিজে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien), বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের নেতারা। পুর আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা কাটাকাটির পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের ব্যানার ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

এরপর হেলমেট পরে দফতরের ভিতরে ঢোকে পুলিশ। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা এবং তাঁদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগ ওঠে দফতরের লোকজনের বিরুদ্ধে। পাল্টা তৃণমূলের তরফে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ, জোর করে ঢোকা এবং মহিলাদের হেনস্থার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

এই ঘটনায় অভিষেকের দফতরের ১২ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। রাতে দফতরের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন, সাইনবোর্ড সরিয়ে দিলেও তৃণমূলের ব্যানার ফের লাগানো হবে। তাঁর দাবি, অফিসটি তৃণমূলের নামে ভাড়া নেওয়া এবং দীর্ঘ ৬-৭ বছর ধরে নিয়মিত ভাড়া দেওয়া হচ্ছে।

অভিষেকের প্রশ্ন, একই ভবন বা আশপাশে থাকা অন্য বিলবোর্ডগুলির বিরুদ্ধে কেন একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই তাঁর দফতরকে নিশানা করা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, বৃহস্পতিবারের ঘটনা নিয়ে আইনি লড়াই থেকে পিছিয়ে যাবেন না।

তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি ইতিমধ্যেই আদালতের নজরে আনা হয়েছে। প্রয়োজন হলে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court) থেকে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) পর্যন্ত যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অভিষেকের দাবি, গণতন্ত্রে কোনও রাজনৈতিক দল বা ক্ষমতাশালী ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং পুরো বিষয়টির বিচারব্যবস্থার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।

পুলিশকেও সরাসরি নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, বিজেপিকে সন্তুষ্ট করতেই পুলিশের একটি অংশ ক্যামাক স্ট্রিটে সক্রিয় হয়েছিল। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। এমনকি তাঁর দফতরের এক ব্যক্তিকে সাততলার রেলিং থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন অভিষেক। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

অভিষেকের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh)। তাঁর দাবি, পুরসভা বা পুলিশের পদক্ষেপ বেআইনি মনে হলে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ ছিল। তাঁর প্রশ্ন, পুলিশের গায়ে হাত তোলা বা সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা কীভাবে বৈধ হতে পারে?

সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরের বাইরে ফের তৃণমূলের ব্যানার টাঙানোয় সংঘাত আরও এক ধাপ বাড়ল। একদিকে পুরসভার পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল, অন্যদিকে পুলিশি অভিযানে বাধা ও ধস্তাধস্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিষেকের স্পষ্ট বার্তা, এই লড়াই এবার রাস্তায় নয়, আদালত পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন