নজরবন্দি ব্যুরো: কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে (Camac Street) নিজের অফিসের বাইরে বিলবোর্ড ঘিরে পুরসভা ও পুলিশের পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি বিলবোর্ড নিয়ে পদক্ষেপ করতে গিয়ে পুলিশ-পুরসভার আধিকারিকদের অফিসে ঢোকার প্রয়োজন কেন হল? একইসঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, ‘বিজেপি এত ভয় পাচ্ছে কেন?’
অভিষেকের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে বা অফিসের বিলবোর্ড নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে প্রথমে তাঁকে নিয়ম মেনে নোটিস দেওয়া উচিত ছিল। অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য, সংশ্লিষ্ট নথি এবং যে ছবির ভিত্তিতে নোটিস দেওয়া হয়েছে, সেগুলিও তাঁকে দেখানো প্রয়োজন ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, কোনও বৈধ নির্দেশ বা অর্ডার না দেখিয়েই পুলিশ ও কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা তাঁর অফিসে এসেছিলেন। তিনি আধিকারিকদের কাছে জানতে চেয়েছেন, কোন আইনি কর্তৃত্বের বলে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, আইন মেনে পরিদর্শন হলে তিনি সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন, কিন্তু যথাযথ প্রক্রিয়া এড়িয়ে কোনও পদক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
ঘটনায় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলেছেন সঙ্গে থাকা সরঞ্জাম নিয়ে। অভিষেকের বক্তব্য, পরিদর্শনের জন্য মাপজোকের ফিতা, ইঞ্জিনিয়ার বা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু গ্যাস কাটার নিয়ে আসার প্রয়োজন কেন হল? তাঁর প্রশ্ন, তাহলে কি শুধুই পরিদর্শন নয়, বিলবোর্ড খুলে ফেলারও প্রস্তুতি ছিল?
অভিষেক আরও বলেন, বিলবোর্ডটি অফিসের বাইরের অংশে থাকা সত্ত্বেও আধিকারিকরা কেন ব্যক্তিগত অফিসের ভিতরে প্রবেশ করতে চাইছিলেন, সেটিও স্পষ্ট নয়। তাঁর মতে, বৈধ কর্তৃত্ব ছাড়া ব্যক্তিগত জায়গায় প্রবেশ করা যায় না। উপরমহলের নির্দেশ থাকলেও সংবিধান, আইন ও বিচারব্যবস্থাকে পাশ কাটিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয়।
এই ঘটনাকে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও দেখছেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করার জন্য একাধিক দিক থেকে চাপ তৈরি করা হচ্ছে। দলীয় কর্মসূচি, কার্যালয়, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে বিলবোর্ড—বিভিন্ন ক্ষেত্রে তৃণমূলকে নিশানা করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
সেখান থেকেই বিজেপির উদ্দেশে সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর বক্তব্য, মানুষ যদি বিজেপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনে থাকে, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে এত ভয় কেন? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-কে উদ্দেশ করে অভিষেক বলেন, ক্ষমতার ব্যবহার করে তৃণমূলকে শেষ করার চেষ্টা সফল হবে না। তাঁর কথায়, ঘাস যত কাটা হবে, ততই তা বাড়বে।
এদিন গরিব মানুষের উচ্ছেদ নিয়েও সরব হন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, বুলডোজার দিয়ে বাড়ি বা দোকান ভেঙে দেওয়ার আগে সরকার চাইলে গরিব মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে পারে। এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)-এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-র রেলস্টেশনে চা বিক্রির প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক পাল্টা প্রশ্ন করেন—যে রেলস্টেশনে মোদি চা বিক্রি করতেন, সেটি ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল, নাকি সরকারি সম্পত্তি? বিজেপি নেতারা আগে এই প্রশ্নের উত্তর দিন, তারপর তাঁকে একই প্রশ্ন করা হলে তিনিও উত্তর দেবেন বলে জানান অভিষেক।
ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনা নিয়ে আইনি পথে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লেখার কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান অভিষেক। প্রয়োজনে কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এ যাওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, আইনসম্মত পরিদর্শন, নোটিস, শুনানি এবং আদালতের প্রক্রিয়ায় তাঁর আপত্তি নেই।
তবে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া ব্যক্তিগত জায়গায় প্রবেশ, বিলবোর্ড খুলে ফেলা বা জোর করে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা তিনি মেনে নেবেন না বলেই জানিয়েছেন। ফলে ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন প্রশাসনিক পদক্ষেপের গণ্ডি ছাড়িয়ে সরাসরি রাজনৈতিক ও আইনি সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে।



