বাংলার ছয়টি বিধানসভা উপনির্বাচনের ফলাফলে ফের একবার স্পষ্ট হলো, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়নমুখী রাজনীতি বাংলার মানুষের আস্থা অর্জনে সফল। ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়ে তৃণমূল প্রথমবার মাদারিহাট আসন দখল করেছে। গ্রাম ও শহরের মিশ্র ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেসের ছক্কা নিশ্চিত হলেও বিজেপি, বাম এবং কংগ্রেসের অবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়ল।
মাদারিহাটে তৃণমূলের ঐতিহাসিক জয়
মাদারিহাট বিধানসভা আসনটি বরাবরই চা-বাগান অধ্যুষিত অঞ্চল, যেখানে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান ছিল। তবে এ বছর উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পো বিজেপিকে পরাস্ত করে ইতিহাস গড়েছেন। ২০১৬ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনে এই আসনটি বিজেপি প্রার্থী মনোজ টিগ্গার দখলে ছিল। এবার সেই আসনে পদ্মফুলের জায়গা নিল জোড়াফুল।


তৃণমূলের স্থানীয় নেতা প্রকাশ চিক বরাইক দাবি করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ এবং বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধেই এই জয় মানুষকে একত্রিত করেছে। মাদারিহাটের পরাজয়ের পাশাপাশি রাজ্যের বাকি পাঁচটি আসনেও বিজেপি কার্যত ছন্নছাড়া অবস্থায় পড়েছে। বিশেষত, মাদারিহাটে বিজেপির প্রচারের অনীহা এবং নেতাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব স্পষ্টভাবে প্রভাব ফেলেছে।
বিজেপির শীর্ষ নেতা জন বার্লার ভূমিকা নিয়ে দলের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে। উপনির্বাচনের সময় বার্লা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করায় দলের মধ্যে সন্দেহ বাড়ে। এই উপনির্বাচন আবারও প্রমাণ করল যে, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস বাংলার রাজনীতিতে কার্যত প্রান্তিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ছ’টি আসনের মধ্যে শুধুমাত্র হাড়োয়া কেন্দ্রে বাম সমর্থিত আইএসএফ প্রার্থী দ্বিতীয় স্থানে থাকতে পেরেছেন। বাকি সবকটি আসনে বাম-কংগ্রেস প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ছয়টি উপনির্বাচনের মধ্যে নৈহাটি এবং মেদিনীপুর শহরাঞ্চলের আসন এবং বাকি চারটি গ্রামীণ অঞ্চল। এই উপনির্বাচনে তৃণমূল গ্রাম ও শহরের মানুষের কাছ থেকে একই রকম সমর্থন পেয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এই ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।


তৃণমূল কংগ্রেসের এই জয় শাসকদলের সংগঠন শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের দুর্বলতাকেও তুলে ধরেছে। বিজেপি নেতৃত্ব এই পরাজয়কে বিপর্যয় না বলে শিক্ষার সুযোগ হিসেবে দেখছে, তবে বাস্তব পরিস্থিতি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং।








