বর্ধমান হাসপাতালে শ্লীলতাহানি! রোগীর মেয়েকে হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার ওয়ার্ড বয়

চিকিৎসাধীন রোগীর মেয়েকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে উত্তপ্ত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ। অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয় বিশ্বজিৎ দে গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রাজ্যজুড়ে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (Burdwan Medical College and Hospital) থেকে উঠে এল চাঞ্চল্যকর ঘটনা। চিকিৎসাধীন এক রোগীর মেয়েকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক ওয়ার্ড বয়কে। ঘটনার জেরে ফের রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রবল চাঞ্চল্য।

ধৃতের নাম বিশ্বজিৎ দে ওরফে বাপ্পা, যিনি বর্ধমান শহরের বাবুরবাগ কালীতলা এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ, শনিবার রাতে হাসপাতালে থাকা আদিবাসী যুবতীর মায়ের ওয়ার্ডে ঢুকে যুবতীর উপর শ্লীলতাহানি ও মারধরের চেষ্টা করে অভিযুক্ত।

Shamim Ahamed Ads

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন ধরে বর্ধমান মেডিক্যালে ভর্তি ছিলেন যুবতীর মা। তিনি হাসপাতালে মায়ের সঙ্গেই থাকতেন। প্রথম থেকেই অভিযুক্ত ওয়ার্ড বয় তাঁর প্রতি কু-ইঙ্গিত করছিল বলে অভিযোগ। রবিবার রাতে আচমকা ঘরে ঢুকে আলো নিভিয়ে যুবতীকে জড়িয়ে ধরে অভিযুক্ত। এমনকী তাঁর শাড়ি টানাটানি করা হয় বলে দাবি। যুবতী চিৎকার করলে মুখ চেপে ধরা হয়, এমনকি তাঁকে মারধরও করা হয়। পরে তিনি নিজেকে কোনোরকমে মুক্ত করে চিৎকার শুরু করলে, হাসপাতালে থাকা অন্য রোগী ও আত্মীয়রা ছুটে আসেন। ততক্ষণে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই পুলিশে খবর দেওয়া হয়। বর্ধমান মহিলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার ধৃতকে বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। বিচারক তাঁকে দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন, যাতে দেখা গিয়েছে অভিযুক্তকে ওয়ার্ডের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করতে। তদন্ত চলছে, এবং পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আগেও হাসপাতালের কর্মীদের কাছে একাধিক আচরণগত অভিযোগ ছিল।

এই ঘটনার পর ফের প্রশ্ন উঠছে — রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগী ও আত্মীয়দের নিরাপত্তা কতটা সুনিশ্চিত?

প্রসঙ্গত, মাত্র কয়েকদিন আগেই এসএসকেএম হাসপাতালে এক নাবালিকা রোগীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয় এক কর্মী। তারও আগে, উলুবেড়িয়া মেডিক্যাল কলেজে কালীপুজোর দিন কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে মারধর করা হয়। ধারাবাহিক এই ঘটনাগুলি রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থার নিরাপত্তা ঘাটতিকে সামনে আনছে।

গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রাজ্যের সমস্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু তার পরেও এমন ঘটনা ঘটায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্বাস্থ্য মহলে।

বর্ধমান হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “আমরা চিকিৎসক হিসেবে রোগীর সেবা দিই, কিন্তু যদি তাঁদের আত্মীয়রাই এমন বিপদের মুখে পড়েন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

এই ঘটনায় রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরও রিপোর্ট চেয়েছে। প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলিতে নিরাপত্তারক্ষী সংখ্যা বাড়ানো, নজরদারি ক্যামেরার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কর্মীদের যাচাই প্রক্রিয়া আরও কড়াকড়ি করার বিষয়ে। নিরাপত্তা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত