ভারতের সাঁতার ইতিহাসে এক গৌরবময় নাম বুলা চৌধুরী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ছিলেন ক্রীড়ামহলের অনুপ্রেরণা। কিন্তু, রাজনীতির আঙিনায় আবারও তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। বুধবার কসবায় তাঁর বাড়িতে উপস্থিত হন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, এবং সেই সাক্ষাৎ ঘিরেই এখন উত্তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি।
সুকান্ত মজুমদারের সফরের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে—বুলা চৌধুরী কি বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন?
সুকান্ত জানান, খেলাধুলার ক্ষেত্রে বুলা চৌধুরীর অভিজ্ঞতা অসাধারণ, এবং দলের ক্রীড়া সেলে তাঁর মতো একজন ব্যক্তিত্ব যুক্ত হলে তা রাজ্যের ক্রীড়া উন্নয়নে সহায়ক হবে। তিনি বলেন, “ওঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো উচিত। আমরা যখনই সুযোগ পাব, তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগাব। তাই মানুষের কাছে আবেদন, আমাদের সুযোগটা দিন।”
একসময় বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়ে ২০০৬ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের নন্দনপুর কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন বুলা চৌধুরী। পরে রাজনীতির মঞ্চ থেকে সরে দাঁড়ালেও তাঁর জনপ্রিয়তা ও ক্রীড়াজগতের অবদান আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। সাম্প্রতিক কালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য বুলাকে ফের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। ইডেনে ভারতের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষকে সংবর্ধনা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বুলার অর্জুন পুরস্কার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, “আমি তো ওর মতো সাঁতারু পাইনি।” সেই মন্তব্য নিয়েই বিতর্কের পর্ব শুরু হয়।
এই আবহেই কসবায় বুলার বাড়িতে পৌঁছে যান সুকান্ত।
সূত্রের খবর, বিজেপির ক্রীড়া সেলে তাঁকে যুক্ত করার প্রস্তাব দেন তিনি। পাশাপাশি বুলার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন—রাজ্যে একটি সুইমিং অ্যাকাডেমি খোলা—নিয়ে সাহায্যের আশ্বাসও দেন। সুকান্ত জানান, ডিসেম্বর মাসে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করে দেবেন। তাঁর মন্তব্য, “রাজ্যে প্রতিভা রয়েছে, শুধু সুযোগ নেই। কেন্দ্রের সহায়তা পেলে বুলার স্বপ্ন পূরণ হবে।”
বুলা চৌধুরী নিজের অবস্থান নিয়ে কিছুটা কূটনৈতিকভাবেই উত্তর দেন।
তিনি বলেন, “আমি কখনও অ্যাওয়ার্ডের জন্য সাঁতার কাটিনি। আমার অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মকে দিতে চাই। যদি সেটা না পারি, তাহলে আমার সব পুরস্কারই বৃথা।” সাংবাদিকরা তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করেন—রাজনীতির ময়দানে আবার দেখা যাবে কি তাঁকে? উত্তরে বুলা বলেন, “জলই আমার জীবন। জল ছাড়া কেউ বাঁচতে পারে না। সময়ই বলবে ভবিষ্যৎ কী।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সুকান্তের এই সফর নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়। রাজ্যে ক্রীড়া-ভিত্তিক জনপ্রিয় মুখদের দলে টানতে বিজেপি যে সক্রিয়, এই সাক্ষাৎ তারই অংশ হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পর যেভাবে বুলা আলোচনায় উঠে এসেছেন, তাতে রাজনীতির জলে নতুন ঢেউ উঠেছে বলেই মনে করছেন অনেকে।
তবে এখনো পর্যন্ত বুলা চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনও ঘোষণা করেননি। তবুও তাঁর বাড়িতে সুকান্তর আগমন রাজনৈতিক জল্পনাকে আরও ঘনীভূত করেছে।
বুলা কি তবে খেলাধুলার পর রাজনীতির জলেও আবার ঝাঁপ দিতে চলেছেন? উত্তর দেবে সময়ই।



