নজরবন্দি ব্যুরোঃ লাগাতার বুথ দখল, লাগামহীন ছাপ্পা, লাখো অভিযোগ পাথেয় করে সম্পন্ন হল কলকাতা পুরসভা নির্বাচন ২০২১। কদিন আগেই ভোট প্রচারের আবহে তৃণমূল সিপিআইএম রাজনৈতিক সৌজন্য চোখে পড়লেও আজ কার্যত নতিস্বীকার করে গতবারের জেতা আসনের হাল ছেড়ে পথে বসেছিল সিপিআইএম। ৯৬, ১০১, ১০২, ১১০ সহ একাধিক ওয়ার্ডে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বুথ দখলের অভিযোগ তোলে সিপিআইএমের। এরই মাঝে আরও এক হতাশার ছবি, ভোট দিতে পারলেন না সিপিআইএমের ‘ব্র্যান্ড’ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুনঃ প্রমাণ পেলে দলীয় কর্মীর বিরুদ্ধে ২৪ ঘন্টার মধ্যে পদক্ষেপ, জানালেন অভিষেক
এতদিন নিয়ম করে সপরিবারে ভোট দিতেন বুদ্ধবাবু। যেতেন বাড়ির কাছে পাঠভবন স্কুলের বুথে। আর সেই ছবি ধরা পড়ত সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায়। কিন্তুগত চার বছর ধরে একাধিক ভোট এসেছে, গিয়েছে। তবে তাঁকে আর দেখা যায়নি। যেমনটা এবারও দেখা গেল না। মেয়ে সুচেতনার সঙ্গে এসে ভোট দিয়ে গেলেন মীরা ভট্টাচার্য। কিন্তু ভোট দিতে এলেন না বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। আসলে ভোট দিতে পারলেন না।
ভোট দিতে আসতে না পারার কারন শারীরিক অসুস্থতা। সেজন্য আক্ষেপও কম নেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। তাঁর ভোট দিতে না পারার কষ্টের কথা জানিয়েছেন স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য। আসলে অসুস্থতার কারনে, ২০১৭ সালের পর থেকেই আর বাড়ির বাইরে যান না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। চোখে প্রায় দেখতে পাননা বললেই চলে। রেটিনা ক্রমেই পাতলা হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। সবথেকে প্রিয়, বই পড়া, সেটাও এখন পারেন না বুদ্ধবাবু। টেলিভিশন দেখতে না পেলেও শুনেই দেখার স্বাদ মেটান তিনি। খবরের কাগজ পড়ে শোনান মীরা দেবী।
শরীর একেবারেই অশক্ত, ভোট দিতে পারলেন না বুদ্ধবাবু। বার্তা পৌঁছে দিলেন মীরা দেবী।

দিন দিন শরীরে অবস্থার অবনতি হচ্ছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। সিওপিডি–র সমস্যা রয়েছে। সব সময়ই বাইরে থেকে অক্সিজেন দিতে হয়। গত বছর কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার পর থেকে বেড়েছে শারীরিক জটিলতা। আজ বুদ্ধজায়া মীরা জানালেন, শরীর একেবারেই অশক্ত। কিন্তু মাথাটা একেবারেই পরিষ্কার। সব খবরাখবর রাখেন। এমনকী এই পুরনির্বাচন নিয়েও সব খবর রেখেছেন। আক্ষেপ করছেন, ভোট দিতে পারলেন না।



