ভারতে যোগাযোগ প্রযুক্তিতে নতুন সংযোজন BSNL Satellite Phone। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা BSNL এমন একটি বিশেষ ফোন বাজারে এনেছে, যা চালাতে প্রয়োজন হয় না সিম কার্ড বা মোবাইল টাওয়ার। প্রায় ₹১.৩৪ লক্ষ মূল্যের এই ডিভাইস মূলত এমন জায়গার জন্য তৈরি, যেখানে সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অচল। তবে এই ফোন কিনতে চাইলে আগে নিতে হবে সরকারি অনুমতি।
সাধারণ স্মার্টফোনের মতো এই ডিভাইস মোবাইল টাওয়ারের সঙ্গে সংযুক্ত হয় না। পরিবর্তে এটি সরাসরি কৃত্রিম উপগ্রহের (Satellite) মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে। ইনমারস্যাট (Inmarsat)-এর মতো আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট পরিষেবা সংস্থার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ফোনটি ভয়েস কল ও বার্তা আদান-প্রদান করতে সক্ষম।
ফোন থেকে কল বা বার্তা পাঠালে সিগন্যাল প্রথমে স্যাটেলাইটে পৌঁছায়। সেখান থেকে তা গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট টেলিকম নেটওয়ার্কে পৌঁছে যায়। ফলে পাহাড়ি এলাকা, গভীর বনাঞ্চল, সমুদ্রের মাঝখান কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলেও যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব।
ফিচারের দিক থেকেও এটি সাধারণ স্মার্টফোনের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। স্যাটেলাইট ভয়েস কল ও এসএমএসের পাশাপাশি রয়েছে জরুরি পরিস্থিতির জন্য SOS Emergency Support। দীর্ঘ সময় ব্যাটারি ব্যাকআপ, ধুলো, জল ও কঠিন পরিবেশে ব্যবহারের উপযোগী শক্তপোক্ত নকশাও এই ফোনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
BSNL জানিয়েছে, এই ফোন মূলত বিশেষ পেশার মানুষের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনী, সীমান্তরক্ষী, দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী, মৎস্যজীবী, খনি শিল্পের কর্মী, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত সরকারি সংস্থা এবং দুর্গম এলাকায় যাতায়াতকারী অভিযাত্রী বা তীর্থযাত্রীরা এর প্রধান ব্যবহারকারী হতে পারেন।
তবে ইচ্ছা করলেই এই ফোন কেনা বা ব্যবহার করা যাবে না। ভারতে স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারে কঠোর সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে। টেলিযোগাযোগ বিভাগ (DoT)-এর অনুমোদন বা No Objection Certificate (NOC) ছাড়া এই ফোন কেনা বা ব্যবহার আইনত অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
BSNL-এর তরফে জানানো হয়েছে, সরকারি ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য বিশেষ পোস্টপেইড প্ল্যানও রয়েছে। ₹৩,৫০০, ₹৫,৮৩৫ এবং ₹১১,৬৭০ মূল্যের বিভিন্ন প্ল্যানে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফ্রি টকটাইম ও এসএমএস সুবিধা দেওয়া হয়। ফোনটি কেনা বা পরিষেবা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে নিকটস্থ BSNL অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
অনেকেই এই ফোনের দামের সঙ্গে আইফোনের তুলনা করছেন। তবে দুই ডিভাইসের উদ্দেশ্য একেবারেই আলাদা। আইফোনে সীমিত জরুরি স্যাটেলাইট সুবিধা থাকলেও BSNL Satellite Phone সার্বক্ষণিক স্যাটেলাইট যোগাযোগের জন্য তৈরি একটি পেশাদার ডিভাইস। যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ অচল, সেখানে এই ফোনই হতে পারে নির্ভরযোগ্য যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম।






