কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড বহু দশক ধরে রাজনৈতিক সমাবেশের কেন্দ্রবিন্দু। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে নেহরুর ভাষণ, বামেদের উত্থান-পতন কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম বৃহৎ জনসভা—ব্রিগেডের সঙ্গে যুক্ত ইতিহাস বিস্তর।
সাম্প্রতিক সময়ের ব্রিগেডের ছবি অবশ্য কিছুটা আলাদা। কয়েকদিন আগেই সেখানে অনুষ্ঠিত হয়েছিল পাঁচ লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠ, যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। নদিয়ার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কর্মসূচিকে ধর্মীয় মেরুকরণ বলে সমালোচনা করেন।
এমন প্রেক্ষাপটে এবার একই মাঠেই আরও একটি বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ঘোষণা করলেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের গোসাই পরিষদের সভাপতি নান্টু হালদার। তাঁর নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি মমতাবালা ঠাকুর-ঘনিষ্ঠ শিবিরের বলে পরিচিত।
শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, জানুয়ারিতে ব্রিগেডে ‘লক্ষ কণ্ঠে হরিনাম সংকীর্তন’ অনুষ্ঠিত হবে। তাঁর কথায়,
“আমরা সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ভাবেই এই কর্মসূচি করতে চাই। হরিনাম শেষে নির্বাচন কমিশনের কাছে মতুয়াদের ভোটার তালিকায় নাম নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হবে।”
নান্টু হালদার আরও জানান, রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন নিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বাড়ছে। পাশাপাশি, সিএএ নিয়ে তাঁদের অসন্তোষও কর্মসূচির অন্যতম কারণ।
“ফর্ম ফিল-আপ করা হলেও এখনও নাগরিকত্ব পাওয়া যায়নি। সেই ক্ষোভও আমরা জানাব,” বলেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—মতুয়ারা বিভ্রান্ত হয়েছেন। বিজেপি নেতা প্রিয়াংগু পাণ্ডে বলেন,
“CAA নিয়ে ওনাদের ভুল বোঝানো হয়েছে। সব হিন্দুই নাগরিকত্ব পাবেন। হরিনাম অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ এলে আমরা যাব। কিন্তু গীতাপাঠে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তিনি যাননি।”
ব্রিগেডে ধর্মীয় কর্মসূচির পরপর আয়োজন তাই রাজনীতির অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। একদিকে গীতাপাঠ বিতর্ক, অন্যদিকে মতুয়াদের হরিনাম—উভয় ক্ষেত্রই ভোট-রাজনীতিকে ছুঁয়ে যাচ্ছে সূক্ষ্মভাবে।



