নজরবন্দি ব্যুরঃ ২১ এর ভোট মরশুমে হটস্পট ছিল নন্দীগ্রাম। গোটা ভোট আবহে ভরকেন্দ্র হিসেবে নন্দীগ্রাম নিয়ে উত্তেজনা ফুটছিল কয়েক মাস ধরে। একদিকে প্রার্থী ছিলেন মমতা, অন্যদিকে শুভেন্দু। ভোট মেটার পর আসতে আসতে ভরকেন্দ্র থেকে সরেছিল নজর। এবার ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে কেঁপে উঠলো সেই নন্দীগ্রাম।
আরও পড়ুনঃ আবাসন-কমপ্লেক্সে গোপনে প্রচার সারছেন প্রিয়াঙ্কা, নয়া স্ট্র্যাটেজির ব্যাখ্যা দিলীপের
ঘটনাস্থল নন্দীগ্রামের কালীচরণপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির জাদুবাড়ি চক। স্থানীয় সূত্রের খবর, সেখনে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি আছে, মালিক জাকির খাঁ। ফাঁকা বাড়িতে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা, ৮ টা নাগাদ তিন শিশু খেলতে ঢোকে। বল ভেবে একটি দ্রব্য তুলে নেয় তারা। তার পরেই বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। চিৎকার আর শব্দ শুনেই জড়ো হন আশেপাশের লোকজন।
ততক্ষণে ধোঁয়া আর রক্তে ভরে গিয়েছে চারপাশ। তিন জনের মধ্যে জাহিরুন খাতুন নামে এক ৯ থেকে ১০ বছরের নাবালিকা গুরুতর আহত হয়, তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ রক্ষা হনি। অন্য দুজনের একজনের চোট গুরুতর। পায়ে তৈরি হয়েছে গভীর ক্ষত, তাঁকে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, চলছে অক্সিজেনও। অন্য জনের মাথায় লেগেছে।
ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ নন্দীগ্রামে, ফাঁকা বাড়িতে খেলতে গিয়ে বোমা ফেঁটে মৃত ১।
স্থানীয়দের মতে, বুহু দিন ধরে এমনিই ফাঁকা পড়ে থাকে ওই বাড়ি। গতকাল সন্ধ্যেতে সেখানে খেলতে গিয়েছিল ৩ জন। তার মাঝেই ঘটে যায় বিপত্তি। চিৎকার শুনেই ছুটে এসেছিলেন চার পাশের লোকজন। তড়িঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। তবুও হয়নি শেষ রক্ষা। নাবালিকার মৃত্যুতে স্বাভাবিক ভাবেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যখন দুজন এখনো হাসপাতালেই’

ঘটনা প্রসঙ্গে কালীচরণপুর অঞ্চল প্রধান শেখ সোয়েব গাজি শোক প্রকাশ করে সঠিক তদন্তের দাবি করেছেন, তাঁর মতে, “আমার অঞ্চলের মধ্যেই জাদুবাড়ি চক এলাকা পড়ে। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে এক অঘটন ঘটে। যে বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে তা জাকির শা-এর বাড়ি। দীর্ঘদিন ধরেই বাড়িটি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এ বাড়ির মালিক অনেকদিন ধরেই এখানে থাকেন না। বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কেউ বা কারা বোমা রেখে যায়। ছোট বাচ্চারা খেলতে গিয়ে সেটিকে হাতে তুলে ফেলে। ওরা যেহেতু বাচ্চা বোমা না বল তা বুঝতে পারেনি।
এরপরই বোমাটি হাত থেকে মাটিতে পড়ে গিয়ে বিস্ফোরণ হয়। দু’জন গুরুতর আহত হয়। একই সঙ্গে জাহিরুন খাতুন নামে এক ৯ থেকে ১০ বছরের নাবালিকার মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতেই মারা গিয়েছে। অন্যজনের অবস্থাও খুবই খারাপ। এভাবে একটা অঘটন হয়ে গিয়েছে। যে বা যারা এই ঘটনায় যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিক।” ফাঁকা বাড়ি পেয়ে কোন অপরাধ মূলক কাজ হচ্ছিল কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাও।



