বাংলাদেশের নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিলেন নবনির্বাচিত বিএনপি সাংসদ ডঃ আবদুস সালাম। ঠাকুরগাঁও–২ আসন থেকে জিতে তিনি সরাসরি বলেন, কাউকে যদি হিন্দুদের ভারত চলে যেতে বলতে শোনা যায়, তবে তার প্রতিবাদ করতে হবে—এমনকি ‘থাপ্পড়’ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগবিহীন পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘু হিন্দু ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন পেয়েছে বিএনপি—এমনটাই রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ। এই আবহে ঠাকুরগাঁও–২ আসন থেকে বিএনপির প্রতীকে জয়ী হন ডঃ আবদুস সালাম। জয়ের পরই এলাকায় গিয়ে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে আশ্বাসের বার্তা দেন তিনি।


এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, “এই দেশে কোনও ভেদাভেদ নেই। এই দেশটা আমার, আপনাদের সবার। ভারতে যাবেন কেন? কেউ যদি যেতে বলে, তার গায়ে থাপ্পড় দিয়ে আমাকে জানাবেন।” তাঁর এই মন্তব্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলা ও তাদের ‘ভারতের দালাল’ বলে আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। নানা সময় হিন্দুদের দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায় এবং তারা প্রতিবাদেও নামে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে জামায়াতের প্রভাব কাটাতে সংখ্যালঘু ভোট নিজেদের দিকে টানার কৌশল নেয় বিএনপি। ফলে বিভিন্ন এলাকায় হিন্দু ভোটারদের বড় অংশ বিএনপির পক্ষে ভোট দেয় বলেই মনে করা হচ্ছে।


ঠাকুরগাঁও–২ আসনে ডঃ আবদুস সালাম পেয়েছেন ১,২১,০১৭ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামির আবদুল হাকিম পান ১,১৫,৭০৭ ভোট। অর্থাৎ ৬ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বিএনপি প্রার্থী। ফলে সংখ্যালঘু ভোটারদের সমর্থন যে তাঁর জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে, তা স্পষ্ট। জয়ের পর সেই ভোটারদেরই আশ্বস্ত করার বার্তা দিলেন তিনি।







