২১ নির্বাচনে তৃণমূল অপ্রাসঙ্গিক?মুখোমুখি লড়াই বাম-বিজেপির!

২১ নির্বাচনে তৃণমূল অপ্রাসঙ্গিক?মুখোমুখি লড়াই বাম-বিজেপির!

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২১ নির্বাচনে তৃণমূল অপ্রাসঙ্গিক?মুখোমুখি লড়াই বাম-বিজেপির! ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচন ছিল অনেকটা ২০০৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের পুনরাবৃত্তি। ২০০৯ লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বিপুল আসন পেয়ে উঠে এসেছিল রাজ্য রাজনীতিতে। বামেদের সেই শেষের শুরু। ২০১১ সালে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকার কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যের ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হন মুখ্যমন্ত্রী। ১০ বছর পর ২০১৯ সালে বিজেপি একই ভাবে উঠে আসে তৃণমূলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলে, ২ থেকে একলাফে ১৮ টি আসন!

Samsung নিয়ে এসেছে গ্রাহকদের জন্য সুখবর, হোয়াটসঅ্যাপেই পাবেন কাস্টমার কেয়ার পরিষেবা

রাজ্য রাজনীতিতে অঘোষিত বিরোধী দল তাঁর পর থেকে বিজেপি! লোকসভা নির্বাচনের ভিত্তিতে রাজ্যের ১৪০টির বেশি আসনে এগিয়ে থাকা বিজেপি স্বপ্ন দেখতে শুরু করে ২০২১ সালে পালাবদলের। কিন্তু এর মধ্যেই ঘটে গেছে দিল্লীর নির্বাচন। লোকসভার ভিত্তিতে ৭০ আসনের বিধানসভায় ৬৫ টি আসনে এগিয়ে থাকা বিজেপি বিধানসভা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৮ টি আসন পায়!

সাবস্ক্রাইব করুন শেয়ার করুন।

রাজ্যেও কয়েকমাস পর বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন, কিন্তু তাঁর আগে করোনা ভাইরাসের লকডাউন, শ্রমিক সমস্যা এবং শেষ পর্যন্ত চিন বা নেপাল ইস্যু সব মিলিয়ে জনমত কোন দিকে যেতে পারে তাঁর অঙ্ক বেশ জটিল। এরই মধ্যে একাধিক অপিনিওন পোল প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে, সেখানে দেখা গেছে ক্ষমতায় ফের আসার সম্ভাবনা তৃণমূলের!

৩মাস আগে প্রকাশিত হওয়া নজরবন্দির জনমত সমীক্ষাতেও তেমনই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে এখন যেমনটি এবিপি তে দেখান হয়েছে! কিন্তু লকডাউন আবহে ত্রান বিলিতে সর্বাগ্রে থাকা বামেরা কতটা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে তা নিয়ে এখন পর্যন্ত মাথা ঘামায়নি কোন গনমাধ্যম।

নজরবন্দি পোর্টালের অফিসিয়াল ফেসবুক থেকে ঠিক ১৬ দিন আগে একটি জনমত সমীক্ষা খুলে দেওয়া হয় রাজ্যের মানুষের সম্মুখে। সেই জনমত সমীক্ষা আজ শেষ হয়েছে। জনমত সমীক্ষাটিতে প্রশ্ন রাখা হয়েছিল “তৃণমূলের বিকল্প কে, কার হাতে বেশি সুরক্ষিত বাংলা? বাম না বিজেপি?” সমীক্ষাটিতে মোট ভোট দান করেছেন ১ লক্ষ ১৭ হাজার ১৯৯ জন। যার মধ্যে বিজেপির পক্ষে ভোট পড়েছে ৫৮ হাজার ১৩১ টি(৪৯.৬%) অন্যদিকে বামেদের পক্ষে মত দিয়েছেন ৫৯ হাজার ৬৮ জন(৫০.৪%) অর্থাৎ এই সমীক্ষায় বামফ্রন্ট জয়ী হয়েছে ৯৩৭ টি ভোটে।

এই সমীক্ষায় অনেকে প্রশ্ন তোলেন শুধু বাম বিজেপি কেন? কেন নেই তৃণমূল বা কংগ্রেসের নাম? যদিও যারা এই প্রশ্ন আমাদের করেছিলেন তাঁরা আমাদের প্রশ্নটাই বোঝেননি। আমাদের প্রশ্ন ছিল তৃণমূলের বিকল্প কে! অবশ্য কংগ্রেসের অপশন না রাখা আমাদের একটা ভুল। এই পরিস্থিতিতে গত ২রা জুলাই আমরা ফের একটি জনমত সমীক্ষা খুলে দিই অনলাইনে।

যেখানে প্রশ্ন ছিল প্রতিদিন চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলনের খবর! বেকার সমস্যায় ধুঁকছে রাজ্য। ‘২১ নির্বাচনে কাদের পক্ষে থাকবে চাকরিপ্রার্থীদের ভোট? ভোটিং অপশনে ছিল বাম, বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস এবং নোটা। এই সমীক্ষা শুরু হওয়ার ২ দিনের মাথায় অনেকে অভিযোগ করেন পছন্দের দলকে ভোট দেওয়ার পর ভোট চলে যাচ্ছে অন্য দলে! আমরা এই অভিযোগ পেয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কে বিষয়টি অবগত করাই। এবং ফেসবুক ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ব্যাবস্থা গ্রহন করে।

এই অনলাইন পোলে ব্যাপক সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহন করেন। অনলাইন সমীক্ষায় মোট ভোট দিয়েছেন ১ লক্ষ ৫১ হাজার ৭২০ জন। যার মধ্যে বিজেপির পক্ষে ভোট পড়েছে ৬৪ হাজার ৩০, বামেদের পক্ষে ভোট পড়েছে ৫৫ হাজার ৩৭৪, তৃণমূলের পক্ষে ভোট পড়েছে ২৭ হাজার ৬৭৪, কংগ্রেসের পক্ষে ভোট পড়েছে ১ হাজার ৫৫৮ এবং নোটা তে ভোট দিয়েছেন ৩ হাজার ৮৪ জন।

অর্থাৎ এই সমীক্ষায় বিজেপি জয়ী হয়েছে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বামফ্রন্টের থেকে ৮ হাজার ৬৫৬ টি ভোট বেশি পেয়ে। দেড় লক্ষ সংখ্যার বেশি অংশগ্রহণকারীদের ছোট করে দেখার কোন কারন নেই। তাৎপর্য পূর্ণ বিষয় হল তৃণমূলের তৃতীয় হওয়া! প্রশ্ন উঠছে তবেকি ২১ নির্বাচনে তৃণমূল অপ্রাসঙ্গিক? মুখোমুখি লড়াই বাম-বিজেপির!

এখানে ক্লিক করে দেখে আসতে পারেন নজরবন্দি পোল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x