নজরবন্দি ব্যুরোঃ লোক এলেও ভোট আসেনি, এই মুহুর্তে এই তত্বের ওপর দাঁড়িয়েই বিজেপি নেতৃত্ব পোস্টমর্টাম করছে নিজদের হারের। ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বেশ ভালো পরিমাণ জয়ের পর গেরুয়া শিবির ধরে নিয়েছিলো ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় ক্ষমতা ভার থাকবে তাদের হাতেই। জয় নিশ্চিত করতে শুধু রাজ্য বিজেপি নয়, নিয়ম করে কেন্দ্রীয় নেতা মন্ত্রীরা ব্যাক টু ব্যাক সভা করেছেন বাংলায় টানা কয়েক মাস।
আরও পড়ুনঃ অক্সিজেনের আকাল, রোগীর স্যাচুরেশন নিয়ে জরুরি নির্দেশিকা রাজ্যের


চরম আত্মবিশ্বাসী থাকার পরেও ফলাফলে দেখা গিয়েছে উলটো। বাংলায় ২৯২ আসনের মধ্যে বিজেপি কনোভাবেই সেঞ্চুরি আসন ক্রস করতে পারেনি, অপর দিকে তৃণমূল কংগ্রেস ডবল সেঞ্চুরি পার করে ২১৩ আসনে গিয়ে থেমেছে। হারের প্রথম দিনেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি জানিয়েছিলেন নিজেদের আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। আর হারের কাঁটাছেড়া করতে গিয়েই বিজেপি পুনর্গণনা চাইছে কিছু কেন্দ্রের।
কারন হিসেবে দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ বেশ কয়েকটি জেলায় ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিল, কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে এবার অল্প ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। তাঁদের দাবী গণনায় কারচুপি হয়েছে বলেই এটা সম্ভব । দিলীপবাবু জানান, দু’হাজারের কম ব্যবধানে হারা আসনে পুনর্গণনা চেয়ে মামলা করবে বিজেপি।
গেরুয়া শিবিরের সূত্রের খবর, রাজ্যের নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়ার পর বঙ্গ বিজেপি তার গোড়া খুঁজতে বসেছিলেন, আর তাতেই নাকি কিছু অস্বাভাবিক বিষয় এসেছে তাঁদের সামনে। ৩৬টি এমন আসন রয়েছে, যেখানে বিজেপি প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন ৫ হাজারের কম ভোটে। একাধিক জায়গায় ২০০০ এর কম ভোটে পরাজিত হয়েছেন পদ্ম প্রার্থীরা। তাঁদের দাবী, মিছিলে সভায় এতো লোক আসার পরেও ভোট কেনো দিলোনা? এই তত্বের ওপর বিচার করতে গিয়েই তাদের মনে হয়েছে গণনার সময় আসনগুলিতে কারচুপি করে তৃণমূলকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দলের কাউন্টিং এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে গণনাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। আর জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে তৃণমূলকে।


অন্যদিকে নন্দীগ্রামের ফলাফল নিয়ে পুনর্গণনা চেয়েও না পাওয়ায় ইতিমধ্যেই আদালতে যাবেন বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপির পুনর্গণনা চেয়ে আদালতে যাওয়ার বিষয়ে তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেববাবুর মতে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের কাছে রিকাউন্টিং চেয়েছিলেন। কমিশন দেয়নি। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোর্টে যাবেন। ওদের ক্ষেত্রে কী করবে এখন কমিশন? ওদের ক্ষেত্রেও একই জিনিস হবে বলে আমার বিশ্বাস।” সঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, দু’হাজারে হেরেছে বলেই রিকাউন্টিং হয় না। গণনায় বেনিয়মের অভিযোগ থাকতে হবে।
যেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে সঙ্গে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখন তো ভোটপ্রক্রিয়াই শেষ হয়ে গিয়েছে। বিধায়কদের শপথ নেওয়া হয়ে গিয়েছে। তাই পুনর্গনণার দাবি অযৌক্তিক বলেই জানিয়েছেন তিনি। বিজেপির এই কয়েকদিন ধরে ভাবনা চিন্তা করে আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে ওয়াকিবহাল মহল বলছে, মুখ্যমন্ত্রীর কথার রেশ ধরেই ওয়াকিবহাল মহল বলছে, বিজেপি এখনো নিজেদের হার মেনে নিতে পারেনি। তাই বিধায়ক থেকে মন্ত্রীসভার শপথ সব সম্পন্ন হয়ার পরে আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছে তারা। এসব শুধুই পাল্টা চাপ তৈরির কৌশল।








