ইয়াসের ত্রান বিলি করেই নেতা-কর্মীদের হারানো এনার্জি ফিরিয়ে আনতে চাইছে বিজেপি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ইয়াসের ত্রান বিলি করেই নেতা-কর্মীদের হারানো এনার্জি ফিরিয়ে আনতে চাইছে বিজেপি। ‘ইস বার দোশো পার’ বলে রাজ্যে প্রচারে এসে বারবার হুঙ্কার ছেড়েছেন বিজেপির সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অমিত শাহ। তবে বাস্তবে দুশো কেন ১০০ র অনেক আগে ৭৭ এই থেমে গেছে বিজেপির বিজয়রথ। রাজ্যে মুখ থুবড়ে পড়ার পরেই যেন গুটিয়ে গিয়েছে বিজেপির নেতা-কর্মীরা। বেশিরভাগ দলীয় বৈঠকে জয়ী প্রার্থীরাও থেকেছেন গরহাজির। প্রধান বিরোধী দল হয়েও লড়াইয়ের শক্তি যেন হারিয়ে ফেলেছে দল।

আরও পড়ুনঃ কেন্দ্রের সাথে দ্বন্দ্বের মাঝেই করোনা নিয়ে আশার কথা শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী।

ভোট পরবর্তী গোলমাল নিয়ে সরব হলেও তেমন করে কোনও আন্দোলন দানা বাঁধেনি। সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা রাজ্যে এসেছেন। কয়েকটি জায়গায় বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়েছে। তবে কোনওটাই সে ভাবে মানসিক ভাবে দলকে চাঙ্গা করতে পারেনি। গোটা দলকে রাজনীতির ময়দানে ফেরাতে তাই ইয়াস ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ত্রাণকাজকে কাজে লাগাতে চাইছেন রাজ্য বিজেপি-র শীর্ষনেতৃত্ব। দিল্লিরও নির্দেশ সে রকমই। নেতাদের সকলকেই ত্রাণকাজে জায়গায় জায়গায় যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকা অনুসারে কর্মীদের সক্রিয় করে তুলতে বলা হয়েছে। এই পর্যায়ে জেলা সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। ইয়াস মোকাবিলায় কোন পথে কাজ করতে হবে তা নিয়ে গত মঙ্গলবার নড্ডা একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন রাজ্য বিজেপি-র পদাধিকারীদের সঙ্গে।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানেই রাজ্য নেতাদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ বিলির নির্দেশ দেওয়া হয়। গত শুক্রবার থেকে দলের বিধায়কদের সর্বত্র কাজে নামতে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন আকাশপথে পূর্ব মেদিনীপুরের প্লাবন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন তখন দিলীপও ছিলেন ওই জেলায়। শুক্রবার হলদিয়া, মহিষাদল, তমলুকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ বিলিতে অংশ নেন তিনি। শনিবার তাঁর ত্রাণ বিলির কর্মসূচি রয়েছে খেজুরি, কাঁথি, রামনগর-সহ পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গায়। এছাড়া রাজ্য বিজেপি-র সাধারণ সম্পাদক তথা হুগলির সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় নিজের লোকসভা এলাকায় গিয়েছেন। একই ভাবে মালদহ জেলার বিপর্যস্ত এলাকায় ত্রাণ বিলিতে নেমেছেন সাংসদ খগেন মুর্মু।

ময়নার বিধায়ক অশোক ডিন্ডা, রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী, সোনামুখীর দিবাকর ঘরামি, গাইঘাটার সুব্রত ঠাকুরকে ত্রাণ বিলিতে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। শুধু তাই নয় পরাজিত প্রার্থীদেরও ময়দানে নামতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে দিলীপবাবু বলেন ‘‘আমাদের ত্রাণ অনেক আগে থেকেই চলছিল। লকডাউন পরিস্থিতির মধ্যেও ঘরছাড়া বিজেপি কর্মীদের জন্য জেলায় জেলায় ত্রাণ শিবির চালাতে হচ্ছে। সমাজের যে কোনও প্রয়োজনে বিজেপি যে এগিয়ে আসে তার নজির অতীতেও মানুষ দেখেছে। আমপানের সময়ে অনেক বাধার মধ্যে আমরা ত্রাণ বিলি করেছি।’’

ইয়াসের ত্রান বিলি করেই নেতা-কর্মীদের হারানো এনার্জি ফিরিয়ে আনতে চাইছে বিজেপি। আমপানের সময় বিজেপি যে ভাবে বাধার অভিযোগ করেছিল সেটা অবশ্য এ বার সে ভাবে নেই। যদিও দিলীপের অভিযোগ, ‘‘অনেক জায়গায় বাধার মুখে পড়তে হয়েছে এবং হচ্ছে। শুক্রবারই রুদ্রনীল ঘোষকে ভবানীপুরে মারধর করা হয়েছে।’’ তার মানে কি ইয়াসের ত্রানকে ভরসা করেই ফের ফিরে আসতে পারবে বিজেপি? তা সময় বলবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন