বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার মাটিতে প্রচারের ঝড় তুলতে বড়সড় রণকৌশল নিল বিজেপি। রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ চালাবে গেরুয়া শিবির। এই যাত্রার পরেই ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা থেকে ভোটের দামামা বাজাতে চাইছে দল।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৯টি পৃথক যাত্রা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুরু হয়ে সব ক’টি বিধানসভা কেন্দ্র ছুঁয়ে যাবে। পয়লা মার্চ পাঁচটি এবং ২ মার্চ আরও চারটি যাত্রা শুরু হবে। দোল উৎসবের জন্য ৩ ও ৪ মার্চ বিরতি রেখে ৫ মার্চ থেকে ফের যাত্রা শুরু হয়ে ১০ মার্চ পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। এরপর ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর সভার মধ্য দিয়ে প্রচারের প্রথম পর্ব শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির, যদিও সেই সভার নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি।


এই যাত্রার সূচনায় একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা রাজ্যে আসবেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নীতিন গড়করি, স্মৃতি ইরানি, দেবেন্দ্র ফড়নবীশ, শিবরাজ সিংহ চৌহানসহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা উদ্বোধনী সভায় অংশ নেবেন। প্রত্যেক নেতা একটি করে যাত্রার সূচনা করবেন বলে দলীয় সূত্রে খবর।
মঙ্গলবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে প্রস্তুতি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিপ্লব দেব। বৈঠকে যাত্রার রুট, বড় ও ছোট সমাবেশের সংখ্যা, নেতাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব—সবকিছু নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা হয়।
শমীক ভট্টাচার্য জানান, ১ মার্চ কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি, গড়বেতা ও রায়দিঘি থেকে পাঁচটি যাত্রা শুরু হবে। ২ মার্চ ইসলামপুর, সন্দেশখালি, হাসন ও আমতা থেকে আরও চারটি যাত্রা বেরোবে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে এই কর্মসূচি। প্রতিটি যাত্রায় গড়ে ৬৪টি বড় এবং তিনশোরও বেশি ছোট সমাবেশের পরিকল্পনা রয়েছে।


ভোটের মুখে এই কর্মসূচির ব্যাখ্যায় শমীকের দাবি, তৃণমূল সরকারকে মানুষ বিদায় জানাতে প্রস্তুত, আর সেই পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই যাত্রা।
অন্যদিকে, বিজেপির এই উদ্যোগকে কটাক্ষ করেছে শাসকদল। রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী শশী পাঁজা অভিযোগ করেন, কেন্দ্র বাংলার বকেয়া ২ লক্ষ কোটি টাকা আটকে রেখেছে, চাকরির প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয়নি। তাঁর দাবি, প্রচারের চমক তৈরি করতেই বিজেপি এই যাত্রার আয়োজন করছে।
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও বিজেপির কর্মসূচিকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, বিজেপির যাত্রা মানেই মন্দির–মসজিদের রাজনীতি, মানুষের জীবনজীবিকার লড়াইয়ে তাদের কোনও ভূমিকা নেই।








