রাজ্যে ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই দলের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজি ও জবরদস্তির অভিযোগে প্রকাশ্যে কড়া অবস্থান নিলেন বিজেপির দুই বিধায়ক। দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় (Chandrasekhar Bandopadhyay) এবং মেমারির বিধায়ক মানব গুহ (Manab Guha) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দলের নাম ভাঙিয়ে তোলাবাজি বা জঙ্গি আন্দোলন করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। এমনকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে জেলে পাঠানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
দুর্গাপুরে এক শ্রমিক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের পর দুর্গাপুরে নতুন শিল্প বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কারখানার গেটে জোরজবরদস্তি, তোলাবাজি বা শ্রমিক আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টি হলে শিল্পের পরিবেশ নষ্ট হবে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কারখানার সামনে জঙ্গি আন্দোলন বা তোলাবাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে ‘গুন্ডাদমন আইন’-এ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিল্পপতিদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, কোনও সমস্যা হলে সরাসরি স্থানীয় বিধায়কদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, অপ্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।
চন্দ্রশেখরের বক্তব্যে উঠে আসে দুর্গাপুরে সম্ভাব্য নতুন শিল্প বিনিয়োগের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট (Alloy Steel Plant) এবং দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট (Durgapur Steel Plant)-কে কেন্দ্র করে প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হতে চলেছে। এছাড়াও একাধিক বেসরকারি সংস্থাও শিল্পে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি বলেই মত তাঁর।


অন্যদিকে, মেমারির বিধায়ক মানব গুহ আরও একধাপ এগিয়ে সরাসরি সামাজিক মাধ্যমে চারজনের ছবি ও একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তাঁর অভিযোগ, ওই ব্যক্তিরা তাঁর নাম ব্যবহার করে দলুইবাজার হাই রোড এলাকার একটি কয়লা ডিপো থেকে টাকা তুলেছে। সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার আবেদনও জানান তিনি।
ফেসবুক পোস্টে মানব গুহ লেখেন, অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে পারলে পুলিশকে জানাতে হবে এবং তাঁরা যে-ই হোন না কেন, আইন অনুযায়ী জেলে পাঠানো হবে। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, তাঁর নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি পাঁচ টাকাও তোলাবাজি করে, তা হলেও তিনি কাউকে ছাড় দেবেন না। মেমারিতে কোনও বেআইনি বা অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।


সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির কিছু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, কারখানায় নিয়োগে চাপ সৃষ্টি এবং অন্যান্য অভিযোগ সামনে এসেছে। এমনকি একটি ঘটনায় এক নাবালিকার মামলায় চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও উঠেছে দলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এই আবহেই দুই বিধায়কের প্রকাশ্য কড়া বার্তা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এর আগেও পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি (Jitendra Tiwari) দলীয় সভায় মন্তব্য করেছিলেন, গত ১৫ বছরে তৃণমূল যা অন্যায় করেছে, দলের কিছু কর্মী মাত্র আড়াই মাসেই তা ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সেই মন্তব্যের পর এবার চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় ও মানব গুহের অবস্থান বিজেপির অন্দরে শৃঙ্খলা রক্ষার বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তবে এই অভিযোগগুলির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আদালতে কোনও দোষ প্রমাণিত হয়নি। রাজনৈতিক অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই দুই বিধায়কের এই সতর্কবার্তা রাজ্যের শিল্পাঞ্চল ও সাংগঠনিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।



