নজরবন্দি ব্যুরো: দিনে মমতার ঘরে, টিকিটের টোপ দিতেই রাতে বিজেপির অফিসে! বঙ্গে চলছে ভোটের রঙ্গ! সম্প্রতি বিজেপিতে যোগদানকারী ২ বিধায়কের বিধানসভার অধিবেশনের শেষ দিনে; মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ নিয়ে দলবদলের জল্পনা শুরু হয় এদিন। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ও নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয় ২ জনের। গুঞ্জন শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে, অস্বস্তিতে পড়ে বিজেপি।
আরও পড়ুনঃ হকের লড়াইয়ের প্রায় ৩ মাস। কাঁটাতারে ফুল ফুটিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠকে রাজি কৃষকেরা


প্রসঙ্গত, বিধায়ক সুনীল সিং সাংসদ অর্জুন সিংয়ের আত্মীয়। ওদিকে বনগাঁর বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছিলেন কিছুদিন আগেই। সোমবার ১৬তম রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনের শেষ দিনে তাঁরা মুখোমুখি পড়ে যান মমতা বন্দোপাধ্যায়ের। কি মনে করে পরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন দুজনেই। আলাদা আলাদা করে সাক্ষাৎ করেন ২ জনে। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সুনীল সিংয়ের প্রায় ২২ মিনিট কথা হয়। ব্যাস এই খবর বিদ্যুৎ-এর বেগে ধেয়ে আসে বিজেপির নির্বাচনী অফিসে। হুলুস্থুলু পড়ে যায় হেস্টিংসে।
দিনে মমতার ঘরে, খবর পেয়ে সাথে সাথেই ফোন। দুজনকেই বলা হয় বিজেপি-র অফিসে আসতে। দুজনেই আমতা আমতা করেন… মনে কিন্তু কিন্তু ভাব দেখে বিপাকে পরে বিজেপি। এই দলবদলের সময় যদি দুজন বিধায়ক তৃণমূলে ফিরে যান তাহলে মহা বিপদ। খারাপ বার্তা যাবে জনগনের কাছে। এরপরেই কারন খুঁজতে শুরু করে বিজেপি। বিজেপি সূত্রে খবর, বিশ্বজিতের টিকিট পাওয়া নিয়ে সমস্যা তৈরি করছেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। তাই টিকিট না পেলে তিনি বাধ্য হবেন তৃণমূলে ফিরতে। অন্যদিকে সুনীল চালিয়েছেন ‘ব্যাপারটা পার্শোনাল’ বলে।
পরে তাঁদের দুজনকেই বুঝিয়ে হেস্টিংসের পার্টি অফিসে আনা হয়। বলা হয় টিকিট নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে। সূত্রের দাবি বিজেপি দুজনকেই জিতিয়ে বিধানসভায় ফের নিয়ে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এই শর্তেই আপাতত নড়াচরা বন্ধ করেছেন দুজনেই। এরপর সন্ধ্যায় দেখা যায়, শুভেন্দু অধিকারীর পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সুনীল সিং। আর সম্বর্ধনা সভায় বসে রয়েছেন বিশ্বজিত্ দাস। সত্য সেলুকাস বড় বিচিত্র এই জনসেবা!









