ধর্নামঞ্চের সামনে বিজেপির লিফলেট বিতরণের অভিযোগ, ‘হাতেনাতে ধরুন’ বলতেই পাকড়াও এক জন—বিস্ফোরক মমতা

ধর্মতলায় ধর্নামঞ্চের সামনে বিজেপির লিফলেট বিলির অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হাতেনাতে ধরার নির্দেশের পর এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ধর্মতলায় এসআইআর-বিরোধী ধর্নামঞ্চ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করলেন, তাঁর ধর্নাস্থলের সামনে জমায়েতে ঢুকে বিজেপির তরফে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশের লিফলেট বিলির চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরিস্থিতি বুঝে তৃণমূল কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি এবং অভিযুক্তদের হাতেনাতে ধরার আহ্বান জানান। এর পরই এক ব্যক্তিকে পাকড়াও করা হয়েছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সোমবার ধর্মতলায় ধর্নার চতুর্থ দিনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, “ধর্নায় যাঁরা আছেন সবাই সতর্ক থাকুন। বিজেপি বাইরের এজেন্সি দিয়ে এখানে লিফলেট বিলির চেষ্টা করছে। ওদের হাতেনাতে ধরুন এবং পুলিশের হাতে তুলে দিন। অন্য রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে এভাবে ঢোকার অধিকার তাদের নেই।”

কিছুক্ষণের মধ্যেই ধর্নামঞ্চের সামনে লিফলেট বিলির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ধরে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মমতার কথায়, “কোথায় তারা? সাহস আছে? বুকের পাটা আছে? পালিয়ে গেছে নিশ্চয়ই। একজন ধরা পড়েছে, আমাদের লোকেরাই ধরেছে।”

এই ঘটনাকে ঘিরে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, মানুষের সমর্থন না থাকায় তৃণমূলের জমায়েতে ঢুকে প্রচারের চেষ্টা করছে বিজেপি। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “ভিতুর দল, কাপুরুষের দল। মানুষ ওদের সভায় যাচ্ছে না, তাই এখানে এসে লিফলেট বিলি করছে।”

ঘটনায় অভিযুক্তদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে এফআইআর করার নির্দেশও দেন মমতা। এই বিষয়ে দলের তরফে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজাকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।

এদিকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের নেতা রাহুল সিংহ বলেন, “বিজেপি সেখানে কোনও লিফলেট বিলি করেনি। এটা তৃণমূল নিজেরাই করে বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে।”

রাহুলের দাবি, “মুখ্যমন্ত্রী নিজেই দিনের পর দিন রাস্তা আটকে ধর্না দিচ্ছেন। যদি তাঁর সেখানে বসে থাকার অধিকার থাকে, তা হলে অন্যদেরও নিজেদের দাবি জানাতে সেখানে যাওয়ার অধিকার আছে।”

প্রসঙ্গত, আগামী শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জনসভা করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। সেই সভা ঘিরেই রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত